পদত্যাগী স্বাস্থ্যের ডিজি’র চাকরি নেই
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১৭:২০
নানা কেলেঙ্কারি আর বিতর্কের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদের দেওয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) এক আদেশে এমনটাই বলা হয়েছে। ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘ডা. আবুল কালাম আজাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার সাথে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিপত্রের অনুচ্ছেদ-৭ অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহপরিচালক পদে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ গত ২১ জুলাই থেকে বাতিল করা হলো।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারিতে সমালোচনার মুখে গত ২১ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র দিয়েছিলেন ডা. আজাদ। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পদে ছিলেন ডা. আজাদ। সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ার পরও তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে ওই পদে রেখেছিল সরকার। চাকরির মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ তাকে দুই বছরের চুক্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়।
রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট নিয়ে ভুয়া রিপোর্ট ও প্রতারণাসহ নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে স্বাস্থ্যের ডিজির সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আছে। তাছাড়াও সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নেওয়া দুটি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, এ প্রকল্পে গগলস ও পিপিইর দাম বাজারমূল্যের কয়েকগুণ বেশি ধরা হয়েছে। এ ঘটনার পর গত মাসে প্রকল্পের পরিচালককে বদলি করে সরকার।
মহামারীর মধ্যে নানা অভিযোগ ওঠায় এর আগে স্বাস্থ্য সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তার ধারাবাহিকতায় এবার আবুল কালাম আজাদকে বিদায় নিতে হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করা আবুল কালাম আজাদ ২০০১ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯০ সালে তৎকালীন আইপিজিএমআর (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি নেন তিনি।
অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক এবং অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এবং প্রশাসন) পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

