সুরমী খান-এর একগুচ্ছ কবিতা
শিল্প-সাহিত্য । উত্তরদক্ষিণ
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২০ । আপডেট ১১:০০
১.
খিদা ও কবিতা
খিদা নিয়ে মরে যায় জীবন; কবিতারা অলক্ষ্যে কেঁদে মরে,
শব্দরা হামাগুড়ি দিয়ে হেঁটে যায় অতি নীরবে শিরা উপশিরায়,
তবুও কবিতা হতে চায় না, খিদার জন্য খাদ্য খুঁজতে চায় অনুভূতি!
এখানে খিদা ও কবিতা পাশাপাশি থাকে।
তারপর খিদা চিবিয়ে খায় কবিতাকে,
তৃপ্তি নেই, খিদাও নিবারণ হয় না কবিতায়।
দিনশেষে কবিতারাও গালি খায় বেজন্মার হাঁকে।
২.
মায়া একটি নিষিদ্ধ অনুভূতি
আত্মার আর্তনাদ শুনেছেন?
জানেন আমার শরীরেও না হৃৎপিন্ড আছে।
হৃৎপিন্ড জুড়ে আছে দয়া, মায়াও আছে বেশ।
কিন্তু এখানে এই যে বাস্তবতার সিঁড়িঘরে হাতড়ে বেড়াই রোজ!
কোথায় আমার সেইসব মায়া মুখর দিনগুলি?
সে আর পাবো কোথায় বলুন?
মায়ার উল্টোদিকে আপনারা জুড়ে দিয়েছেন অবহেলার পোট্রেট,
দয়াকে নাম দিয়েছেন দুর্বলতা।
এরপরও যখন আসতে চেয়েছি আপনাদেরই মাঝে
তখন আবার নাম দিয়েছেন ছ্যাঁচড়া!
আপনাদের চোখা কথার খুবলে খাওয়া ধরণ দেখে
মনের ঘরের চিলেকোঠায় সিল মেরেছি
সরকারি সেই তালার মতো করেই,
যেই তালাটা জং ধরলেও খুলবে না আর কখনোই।
৩.
কবিতার অভিশাপ
আমায় একটি আধখাওয়া রাত দেয়া হলো কবিতার জন্য।
জীবনের সাথে সঙ্গমে আমি কবিতার জন্ম দিতে ব্যর্থ!
আমার কাছ থেকে কেড়ে নেয়া হলো রাতের ঘুম
চোখের তারায় আটকে থাকা অজস্র কবিতার অপমৃত্যু
আমাকে যে বিষাদবৃক্ষ বানিয়েছে তাতে কেবল
কাব্যকথা ঝরে পড়ার কথা ছিলো।
অথচ, আজ আমি ততোটাই শব্দ শূন্য যতোটা শূন্য হলে অক্সিজেন
নীরবেই হারিয়ে যাওয়ার কথা আমার।
আমি দিব্যি বেঁচে আছি অক্সিজেন নিয়ে,
শব্দহীন হয়ে ডুবে আছি শব্দের সুতীব্র শূন্যতায়।
একটি রাতের অপমৃত্যু ঠেকাতে –
আমি নিজেকে রাতের বুকে সমর্পণ করে জানলাম,
ঘুমেরা ছুটি নিলে রাত কখনোই নিজস্ব হয় না।
এখানে আপন হয় নিঃসঙ্গতার মতো কিছু নিদারুণ অনুভব!
স্মৃতির মতো কিছু আজন্মলালিত অভিশাপে
যেন রাতটাই হয়ে যায় আস্ত জীবনের বিভীষিকাময় সাক্ষী।
৪.
শুভংকরের ফাঁকি
যে শহরে পদচিহ্ন পড়েনি তোমার
সেই শহর জানে না –
প্রিয়জনের জড়িয়ে থাকার অনুভূতি কেমন!
জীবনে প্রিয়জনের সাথে যদি না হাঁটো
শিশির ভেজা ঘাসের উপর খালি পায়ে দু’কদম,
তাহলে জানা হবে না –
পরম পবিত্রতা ছুঁয়ে দেয়ার অনুভূতি কেমন!
জানাশোনার হিসেব কষতে গিয়ে
চোখ পড়তেই চোখে নিজের মুখোমুখি,
নিজের কাছেই আজো আমি ষোল আনাই ফাঁকি!
অবচেনত মন অচেনা ভীষণ!
জীবন সে তো শুভংকরের সেই শূন্য ক্ষণ!

