বাংলাদেশ ট্রায়ালের সুযোগ হাতছাড়া করলে টিকা প্রাপ্তির অপেক্ষা দীর্ঘ হতে পারে
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ১৪:০৫
ডাঃ এম আর করিম রেজা: চলমান কোভিড-১৯ মহামারি প্রতিরোধে বিশ্বজুড়ে কমবেশি ১৬০টি কোম্পানি টিকা উদ্ভাবনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। চীনের একটি কোম্পানির উদ্ভাবিত টিকা ইতিমধ্যেই সেদেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের দেয়া শুরু হয়েছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানির কয়েকটি কোম্পানি মানবদেহে তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্যের আ্যষ্ট্রা-জেনেকা এবং চীনের ক্যানসিনো ভ্যাক্সিন তৃতীয় পর্যায়ে ট্রায়ালের গবেষণায় আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া গিয়েছে।
অনুমোদন লাভের পর বিশ্বজুড়ে মানবদেহে প্রয়োগের জন্য প্রায় ৭ বিলিয়ন টিকা উৎপাদন করতে হবে, যা একটি বিশাল কর্মযজ্ঞ। স্বাভাবিকভাবেই যে দেশের ঔষধ কোম্পানি এটি উৎপাদন করবে সেই দেশের চাহিদা মিটানোর পর অন্যদেশে রপ্তানি করবে। তবে উদ্ভাবক কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে যৌথভাবে এই টিকা অন্য যেকোনও কোম্পানির উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে ইন্দোনেশিয়া এবং ভারতের কয়েকটি ঔষধ কোম্পানি চীন, বৃটেন ও আমেরিকার সম্ভাব্য উদ্ভাবক কোম্পানির সাথে উৎপাদনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।

চীনের সাইনোভ্যাক কোম্পানির কোভিড ১৯ টিকার তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করার কথা ছিল বাংলাদেশের। বিএমআরসি অনুমোদন দেয়া সত্ত্বেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্তের অভাবে বিষয়টি নিয়ে অহেতুক জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। কোভিড-১৯ ভ্যাক্সিন ট্রায়ালে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্লোবাল রিসার্চে যোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ট্রায়ালের সুযোগটি হাতছাড়া করলে টিকা প্রাপ্তির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে বাংলাদেশের। কাজেই ট্রায়ালে অংশগ্রহণের সুযোগটি হাতছাড়া করা উচিত হবে না।
ট্রায়ালে অংশগ্রহণ করে বিনামূল্যে টিকা লাভের সুযোগের পাশাপাশি সম্ভাব্য টিকা উদ্ভাবক একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দেশীয় কোম্পানির মাধ্যমে টিকা উৎপাদনের চিন্তাভাবনাও করা উচিত।
লেখক: ডাঃ এম আর করিম রেজা, ত্বক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

