অবশেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার ‘গবেষণা’ ইউনিট!

অবশেষে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনার ‘গবেষণা’ ইউনিট!

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ২১:০০

বিশ্বে করোনার ছোবল শুরু হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। বাংলাদেশে মহামারি ভাইরাসটি থাবা বসায় চলতি বছরের মার্চে। এরই মধ্যে দেশে ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৩ হাজারের অধিক।

করোনা বা কভিড-১৯ রোগের আবিষ্কারের পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় করোনা নিয়ে গবেষণা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে করোনার টিকাও তৈরি হয়েছে। যা চলতি বছরের মধ্যেই বাজারজাত শুরু হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের একমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করোনা নিয়ে গবেষণা শুরু করতে একটি ইউনিট চালুর ঘোষণা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) করোনাভাইরাস সংক্রান্ত একটি গবেষণা ইউনিট চালু করা হয়েছে। এই গবেষণার বিষয় হচ্ছে- নতুন উদ্ভাবিত নন ইনভেনসিভ ভেন্টিলেশন সিটেক্স ডব্লিউজি সেভেন সিপাপ ডিভাইস বা যন্ত্রটি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য কতটা কার্যকরী ও করোনায় আক্রান্ত রোগীদের থেকে কী পরিমাণ ভাইরাস বাইরে বের হয়- তা নির্ণয় করা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সি ব্লকের অধ্যাপক সামাদ সেমিনার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে চালু হওয়া গবেষণা ইউনিটের উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বিএসএমএমইউ এর এ্যানেসথেশিয়া, এ্যানালজেশিয়া এন্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগ ও ব্রিটেনের ওয়েলসের হাইওয়েল দ্য ইউনিভার্সিটি হেলথ বোর্ডের যৌথ উদ্যোগে এ গবেষণা কার্যক্রম চলবে বলে বিএসএমএমইউ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়- এতে প্রধান গবেষক হলেন, এ্যানেসথেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ কে এম আখতারুজ্জামান। গবেষকদের মধ্যে আরো রয়েছেন-অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান, অধ্যাপক কেয়ার লিউস, ডা. রিজ থমাস ও ডা. সোহেল মুসা মিঠু।

গবেষণা ইউনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, ‘করোনাভাইরাসজনিত বিশ্ব মহামারী চলাকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহুমুখী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ কেবিন ব্লকের আইসিইউতে ৪টি বেড নিয়ে এই ইউনিট চালু করা হলো।’ তিনি দাবি করেন, ‘এটা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ও সেবাদানকারী চিকিৎসকসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে নব দিগন্ত উন্মোচিত হবে।’

যেকোনো ভাইরাস সংক্রমণের পর ভাইরাল লোড ও ভাইরাসটির এগ্রেসিভনেসের উপর নির্ভর করে রোগীর জীবন কতটা সঙ্কটাপন্ন। এসকল বিষয় নির্ণয়েও এই গবেষণা ইউনিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

বিএসএমএমইউ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানায়, প্রাথমিকভাবে ৫০ জন রোগীর উপর গবেষণা পরিচালিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস বিষয়ে যেসকল গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তা সম্পন্ন করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত গবেষণার বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading