কোরবানিকে সামনে রেখে ঢাকায় অজ্ঞান পার্টি সক্রিয়, গ্রেপ্তার ৫৯
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২০ । আপডেট: ২১:৪০
কোরবানির ঈদের মাত্র একদিন বাকি। শহর ছেড়ে কেউ কেউ গ্রামে যাচ্ছেন। কেউ আবার কোরবানির পশু ক্রয়ের জন্য যাচ্ছেন পশুর হাটে। আর পশু বিক্রি করে ব্যবসায়ীরা ফিরে যাচ্ছেন গ্রামের বাড়ি। সবার সঙ্গে টাকা-পয়সা থাকছে। এই সুযোগে ঢাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অজ্ঞান পার্টি চক্রের ৫৯ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। এরা প্রত্যেকে অজ্ঞান পার্টির পেশাদারী সক্রিয় সদস্য বলে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মহারগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আব্দুল বাতেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর মামলার প্রেক্ষিতে, সেইসঙ্গে ঈদুল আজহাকে ঘিরে অজ্ঞান পার্টি সক্রিয় হয়ে ওঠায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরণের চেতনা-নাশক ওষুধ, স্প্রে, গুল, মলম, পাগলা মলম, ফোল্ডার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি তিনি জানান।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অজ্ঞান পার্টি বা মলম পার্টি নামে পরিচিত এই সংঘবদ্ধ চক্রগুলো সারাবছর অপরাধে করলেও কোরবানির ঈদের মৌসুমে তারা সবচেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং তাদের মূল লক্ষ্য থাকে হাটে গরু বিক্রি করতে আসা বেপারি এবং ক্রেতারা। গত কিছুদিন ধরেই এই সন্দেহভাজন অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা গরু ব্যবসায়ী ও গরু বিক্রেতাদের টার্গেট করে তাদের খাবারের সাথে চেতনা-নাশক মিশিয়ে টাকা পয়সা লুটপাট করে আসছিল বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল বাতেন।
ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জানান, তারা চারজন পাঁচজনের একটি গ্রুপ হয়ে হামলা চালিয়ে থাকে। একেকটি গ্রুপের হামলা চালানোর ধরণ একেক রকম, কেউ খাবারে চেতনা নাশক খাইয়ে কিংবা চোখে মুখে মলম বা স্প্রে ছিটিয়ে লুটপাট করে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। পরে ঢাকার বিভিন্ন গরুর হাট, বাস স্ট্যান্ড, লঞ্চ টার্মিনাল, রেল স্টেশনসহ আরও বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই ৫৯ জনকে আটক করে পুলিশের ৩৬টি ইউনিট। অজ্ঞান পার্টির বিরুদ্ধে এটাই সাম্প্রতিক সবচেয়ে বড় অভিযান।
আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং ঈদের শেষদিন পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করেন ডিবি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আব্দুল বাতেন। ফাইল ছবি।

