পদত্যাগ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী অ্যাবে
উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২০ । আপডেট: ১৪:৫০
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এই পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। অ্যাবে বলেছেন, স্বাস্থ্যজনিত কারণে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে। অ্যাবে বলেছেন, তিনি চান না সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তার অসুস্থতা বাধা হয়ে দাঁড়াক, তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন। মেয়াদ পূর্ণ করতে না পারার জন্য তিনি জাপানের জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে অ্যাবে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই একটি রোগে ভুগছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।
ক্ষমতাসীন দলের নেতারা জানিয়েছেন, অ্যাবের স্বাস্থ্য ভালো। কিন্তু দু’বার হাসপাতালে যাওয়ায় গুজব সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে একবার হাসপাতালে সাড়ে ৭ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর ফলে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে তার রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালনের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন অ্যাবে। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাপানের সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নেতায় পরিণত হয়েছেন। তবে সম্প্রতি তার জনপ্রিয়তায় ধস নেমেছে। সর্বশেষ জনমত জরিপে তা ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
রক্ষণশীল ও জাতীয়তাবাদী হিসেবে অ্যাবের পরিচিতি ছিল। তার আগ্রাসী অর্থনৈতিক নীতি অ্যাবেনোমিক্স হিসেবে পরিচিত। তার শাসনামলে জাপানের প্রতিরক্ষা শক্তিশালী হয়েছে এবং সামরিক ব্যয় বেড়েছে। তিনি সংবিধানের ৯ ধারা সংশোধন করতে পারেননি। ওই ধারায় আত্মরক্ষা ছাড়া সেনাবাহিনীর অন্যান্য কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে আবে ‘আলসারেটিভ কোলাইটিস’ রোগে ভুগছেন। গত জুলাইয়ের শুরুতে তার রক্তবমি হয়েছিল। তারপর থেকে তিনি নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিন্তু গত এক সপ্তাহে তাকে দুইবার হাসপাতালে যেতে হয়। গত সোমবার ৬৫ বছর বয়সী লিবারেল ডেমোক্রাটিক পার্টির এই নেতা আবারও স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেলে তার স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং বর্তমান মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আবের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল।
আবের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জাপানের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেওয়ায় তা দূর করতে মন্ত্রী পরিষদের মুখ্য সচিব ইয়াশিহিদে সুগা সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি এখন সুস্থ আছেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তত রয়েছে, চিকিৎসায় তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।
আবে ১৯৯৩ সালে প্রথমবারের মতো এলডিপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কোবে স্টিল কোম্পানির এক সময়ের কর্মকর্তা আবে ২০০৬ সালে দলীয় সভাপতির দায়িত্ব পান এবং সে বছর কয়েক মাসের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় ৫২ বছরের আবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সবচেয়ে তরুণ প্রধানমন্ত্রী হন। আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জন্ম নেওয়া জাপানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এক বছর পর স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি পদত্যাগ করেন।
২০১২ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে আবের দল জয়ী হয়ার পর আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। দুই বছরের মাথায় ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ‘আবেনোমিক্স’ বা ‘আবেতত্ত্ব’ দেশটির অর্থনীতিকে আরো বেশি চাঙ্গা করবে বলে ফের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসেন। তারপর উত্তর কোরিয়ার ক্রমাগত আগ্রাসী ভাব, দেশের অর্থনৈতিতে ধস, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট নিয়ে জনগণের অসন্তোষে আবের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী হয়ে পড়লে ২০১৭ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী আবে নতুন নির্বাচনের ঘোষণা দেন এবং আবারও বিপুল ভোটে জয়লাভ করে ক্ষমতায় ফেরেন। তথ্য সহায়তা বিডিনিউজ।

