দিনাজপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ইউএনও-কে ঢাকায় স্থানান্তর

দিনাজপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত ইউএনও-কে ঢাকায় স্থানান্তর

হিলি (দিনাজপুর): বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১৪:৪৫

উত্তরাঞ্চলীয় জেলা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুরে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। পরে সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় আনা হয়। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে গুরুতর আহত ইউএনও ওয়াহিদা খানমকে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই হামলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের বাবাও গুরুতর আহত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক এবং পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করা হলে এ বিষয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলতে রাজি হননি। তবে উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রাফে খন্দকার হামলার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

আহত ইউএনও ওয়াহিদার বাবাকে ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওয়াহিদা খানমের বাবা ওমর আলী নওগাঁ থেকে মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ওয়াহিদার স্বামী মেজবাহুল হোসেন রংপুরের পীরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

ওমর আলী পুলিশকে বলেছেন, রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙে কেউ একজন বাসায় ঢোকে। ওয়াহিদা খানম টের পেয়ে এগিয়ে গেলে তার মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় ওমর আলী এগিয়ে গেলে তাকেও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঘটনাস্থলে যান।

ওসি আমিরুল ইসলাম বলেন, ওই বাসা থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি। এটি ডাকাতির চেষ্টা, না ‘আক্রোশ’ থেকে কেউ হামলা করেছে- সেটা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টা নিয়ে এখন একটা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে আছি। এর বেশি কিছু বলতে পারবো না।’

উপজেলার ঘোড়াঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনের ভেতরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।তিনি বলেন, ‘ঠিক কখন এই হামলা হয়েছে- সেটা আমরা জানি না। তবে আমি শুনেছি ভোররাতে দুর্বৃত্তরা তার বাসায় ঢুকে হামলা করেছে।’

হামলার সময় ওয়াহিদা খানমের বাসায় তার বাবা এবং তার তিন বছর বয়সী সন্তান ছিলেন।
তৌহিদুল ইসলাম জানান, ওয়াহিদা খানমের বাবা হামলায় আহত হয়ে ভোরে বাইরে এসে স্থানীয় মানুষজনকে খবর দেন। এরপরই সবাই বিষয়টি জানতে পারে।

ঠিক কী কারণে এমন হামলার ঘটনা ঘটলো, তা এখনো কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তবে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ একজন কর্মকর্তার উপর এ ধরণের হামলা দেশে অনেকটা নজিরবিহীন ঘটনা।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে গুরুতর আহত ওয়াহিদা খানমকে ভর্তি করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, এটি কোনও ডাকাতির ঘটনা নাকি শত্রুতার জের- এনিয়ে এখন পুলিশ তদন্ত করছে। আমি ডিসি সাহেবকে জিজ্ঞেস করেছি- এ রকম কিছু হয়েছিল কি না, শত্রুতাবশত। ডিসি সাহেব বলেছেন, তাকে এ ধরণের কোনও বিষয় কখনো জানানো হয়নি। কোন কিছু হলে একজন নির্বাহী কর্মকর্তা কিন্তু আলোচনা করেন জেলা প্রশাসকের সাথে। এ রকম কোন কিছু তার পক্ষ থেকে অবহিত করা ছিল না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসায় স্থাপন করা ক্লোস সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে অপরাধীদের সনাক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading