৭ মাস পর শঙ্কা নিয়েই স্কুলে উহানের শিক্ষার্থীরা
উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১৭:১৫
মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চীনের উহান নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু করোনাভাইরাসের উৎস হিসেবে বিবেচিত শহরটির অভিভাবক ও শিক্ষকদের শঙ্কা এখনও কাটেনি। দীর্ঘ ৭ মাস পর স্কুল খোলার প্রথমদিন উহানের শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদেরকে উচ্ছ্বাস আর চোখের পানিতে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু অভিভাবক ও শিক্ষকদের চোখ-মুখে উদ্বেগের ছাপ ঠিকই চোখে পড়ছিল বলে জানিযেছে বার্তা সংস্থা- রয়টার্স।
তাদের ভাবনা, ফের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে? সে কারণেই সতর্কতা ভুলে ভাইরাসপ্রতিরোধী সব ধরনের বর্ম এখনি তুলে রাখা উচিত হবে না বলে মত শিক্ষক-অভিভাবকদের। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে জানুয়ারিতে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন হুবেই প্রদেশের এ রাজধানীতে আপাতত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। তাই উহানের কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে শহরটির কমপক্ষে ২ হাজার ৮শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বার প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কলকাকলি আর আশপাশে ব্যস্ততা, উলুও রোড এলিমেন্টারি স্কুলের বাইরের জীবন যেন ফিরে গেছে মহামারী পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায়। এক শিক্ষার্থীকে দেখা গেল, বাবাকে দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করছে। কতদিন পর স্কুলে, আর বাবা কিনা এখনি বাড়ি নিয়ে যেতে এসেছে! মানুষের জটলায় রাস্তায় গাড়ি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে; সকালে নাস্তার স্টল আর বিভিন্ন দোকানে দেখা যাচ্ছে উপচে পড়া ভিড়।
‘মহামারীর কারণে বাচ্চারা বছরের অর্ধেকটা সময়ই বাড়িতে ছিল। তারা ভালোভাবে পড়াশোনা করতে পারেনি, যেমনটা স্কুলে পারতো,’ ১২ বছর বয়সী ছেলের সঙ্গে সকালের নাস্তা খেতে খেতে বলছিলেন ওয়েই ফেনলিং। ৭ মাস পর ফের ছেলের স্কুলে যাওয়াটাই স্বস্তি দিচ্ছে ওই নারীকে। যেন ‘একটা দৈত্য খাঁচা ছেড়ে বের হতে পারল’। অবশ্য এরপরও সতর্কতায় কমতি থাকছে না তার। ‘যদিও এবারের প্রাদুর্ভাব শেষ। কিন্তু এরপরও আমরা একে হালকাভাবে নিতে পারি না,’ বলেছেন ওয়েই।
কোভিড-১৯ উহানের ৩ হাজার ৮৬৯ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এ সংখ্যা করোনাভাইরাসে চীনের মোট মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি। যদিও মে’র মাঝামাঝি থেকে হুবেই প্রদেশের এ রাজধানীতে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণের একটি ঘটনাও ঘটেনি।

