৫ পরিকল্পনায় এক হলো ভারত ও চীন

৫ পরিকল্পনায় এক হলো ভারত ও চীন

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২০। আপডেট ১২:৩০

লাদাখ সীমান্তে গত কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা নিরসনে পাঁচটি পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে চীন ও ভারত। রাশিয়ার মস্কোতে চলতে থাকা সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের পার্শ্ববৈঠকে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই সম্মতিতে পৌঁছান।

এ নিয়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই মন্ত্রীর ‘খোলামেলা এবং গঠনমূলক’ আলোচনায় পাঁচটি পরিকল্পনায় ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা হয়েছে। ভারতীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

গত মে মাস থেকে লাদাখ সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে ভারত ও চীনের সেনাবাহিনী। জুন মাসে একবার প্রাণঘাতী সংঘাতের পর সম্প্রতি দুই দেশই ৪৫ বছর পরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পরস্পরের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলেছে। প্রথম দফা সহিংসতার পর রাশিয়ার হস্তক্ষেপেই প্রতিবেশী দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনে কথা বলেন। কিন্তু প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পরিস্থিতি ভালো হওয়ার চেয়ে আরও জটিল হয়ে যায়। পরে এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে বৈঠকের উদ্যোগ নেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

বৃহস্পতিবার ওই বৈঠকের পর ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাঁচটি বিষয়ে একমত হয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে সীমান্তের সম্মুখসারির সেনা ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সকল চুক্তি ও প্রোটোকল মেনে চলা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি উত্তেজক করে তুলতে পারে এমন সব কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী একমত হয়েছেন যে সীমান্ত এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি কোনও পক্ষের স্বার্থের অনুকূল নয়। সেকারণে তারা একমত হয়েছেন যে উভয় পক্ষের সীমান্ত বাহিনীর উচিত তাদের আলোচনা চালিয়ে যাওয়া, দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া, যথাযথ দূরত্ব বজায় রাখা এবং উত্তেজনা নিরসন করা।’

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয় জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই একমত হয়েছেন যে উভয়পক্ষেরই উচিত হবে ভারত-চীন সম্পর্কের অগ্রগতির বিষয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে যেসব ধারাবাহিক সম্মতি তৈরি হয়েছিল তার থেকে নির্দেশনা নেওয়া। ২০১৮ ও ২০১৯ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর মধ্যকার বৈঠকের দিকে ইঙ্গিত করে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘দুই মন্ত্রী একমত হয়েছেন যে উভয় পক্ষের উচিত চীন-ভারত সীমান্ত বিষয়ক বিদ্যমান সব চুক্তি এবং প্রোটোকল মেনে চলা, সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা বাড়াতে এমন যেকোনও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকা।’

মস্কোর আলোচনায় জয়শঙ্কর ও ওয়াং ই একমত হয়েছেন যে সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে উভয় দেশেরই নতুন আত্মবিশ্বাস গঠনমূলক কাজ ত্বরাণ্বিত করা উচিত। যাতে করে সীমান্তের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং তা জোরালো হয়।

এছাড়া ওই বৈঠকে উভয় দেশই চীন-ভারত সীমান্ত প্রশ্নে বিশেষ দূত মারফত আলোচনা ও যোগাযোগ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও একমত হয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading