সঞ্জু-আর্চারের ছক্কাঘাতে বিধ্বস্ত চেন্নাই
উত্তরদক্ষিণ । বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট : ১৪:৩৩
ধোনির সামনেই কি উদয় ঘটল তার এক উত্তরসূরির? নাকি প্রতিভাবান হয়েও ভারতীয় দলের সিংহদুয়ার এখনও সেই বন্ধই থেকে যাবে সঞ্জু স্যামসনের সামনে?
গতকাল মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) শারজায় টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সঞ্জু স্যামসন, স্টিভ স্মিথ, জোফ্রা আর্চারের দাপটে ২১৬ রান তুলেছিল রাজস্থান। জবাবে ছয় উইকেটে ২০০ রানে থামে চেন্নাই সুপার কিংস। রান তাড়ার সময় ধোনি যখন নেমেছিলেন তখন ১৩.৪ ওভারে পাঁচ উইকেটে ১১৪ তুলেছিল দল। অর্থাৎ, তখন ১০৩ রান দরকার ছিল। হাতে ছিল মাত্র ৩৮ বল!
৯ ছক্কা-সহ ৩২ বলে ৭৪। স্যামসন সাইক্লোনে রাজস্থান রয়্যালস ১৬ রানে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারাল বললে কিছুই বলা হয় না। আসলে দুরমুশ করল। এত বিধ্বস্ত, এত কাধ ঝুলে যাওয়া অবস্থায় সাধারণত দেখা যায় না ধোনির হলুদ জার্সিধারীদের।
সঞ্জু স্যামসন কিন্তু ছিলেন। না হলে ধোনি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সময় থেকে তার নাম শোনা যাবে কেন? চার বছর আগেই ধোনির উত্তরসূরি হিসেবে তার কথা আলোচিত হয়েছিল। জাতীয় নির্বাচক কমিটির প্রধান তখন সন্দীপ পাটিল। তিরুঅনন্তপুরমের উত্তেজক প্রতিভাকে দেখে মনে ধরেছিল পাটিলের। ভেবেছিলেন, এই ছেলেটি সাদা বলের ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে ভাবা যেতে পারে। স্যামসনকে ডেকে তিনি বলেওছিলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি হও।
সেটা ছিল ২০১৬। এটা ২০২০। ‘কভি আজনবি থে’-র নায়কের চোখে পড়া প্রতিভা আজও ভারতীয় ক্রিকেটে ‘আজনবি’। হাতে গোনা কয়েকটা ম্যাচ তাঁর দিকে ছুড়ে দেওয়া হয়েছে দুয়োরানির সন্তানের মতো। শারজায় ভারতীয় ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন লগ্নকে স্ট্রোকের রংমশালে সাজিয়ে তুললেন মালয়লি যুবক। তাঁর ছক্কাবৃষ্টি দেখিয়ে দিয়ে গেল, বাহুবলী না হয়েও টি-টোয়েন্টির শক্তিমান ব্যাটসম্যানদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়া যায়। মনে করিয়ে দিল, আইপিএল যুগেও টাইমিং সম্পদ। দুর্ধর্ষ শর্ট আর্ম পুল মারলেন। রবীন্দ্র জাডেজাকে এমন ভাবে পর-পর দু’বলে ছক্কা মারলেন যেন প্র্যাক্টিস বোলার। যে পীযূষ চাওলা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ছিলেন ধোনির তুরুপের তাস, তাঁকে ব্যাট দিয়ে যেন থাপ্পড় মারলেন। একস্ট্রা কভারের উপর দিয়ে উড়ে গেল ছয়। হাফ সেঞ্চুরি মাত্র ১৯ বলে। স্ট্রাইক রেট ২৩১-এর উপর। ক্রিস গেল, আন্দ্রে রাসেলের মতো পাওয়ারহিটারকেও গর্বিত করবে।

