মেয়র আতিকের ক্ষোভ : ডাকাতির মত পয়সা নিচ্ছে হাসপাতালগুলো

মেয়র আতিকের ক্ষোভ : ডাকাতির মত পয়সা নিচ্ছে হাসপাতালগুলো

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ । আপডেট: ১৫:৫৮

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালগুলো চিকিৎসা ও পরীক্ষার নামে মানুষের কাছ থেকে ‘ডাকাতির মত’ পয়সা নিচ্ছে। হাসপাতাগুলো বেশি পয়সা নিলেও নিজেদের চিকিৎসাবর্জ্য ঠিকমত ব্যবস্থাপনা করছে না জানিয়ে শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে সমন্বিত অভিযান শুরুর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

সারা দেশের চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক সভায় কথা বলেন আতিক। এ সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপসও উপস্থিত ছিলেন।

আতিক বলেন, “বিভিন্ন হাসপাতাল যেভাবে মানুষ থেকে ডাকাতির মাধ্যমে, ডাকাতির মতন করে তারা পয়সা নিচ্ছে। হাসপাতালে ঢোকার আগে পয়সা দিতে হচ্ছে। জমিজমা বিক্রয় করে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।

“অত্যন্ত ব্যয়বহুল চিকিৎসা করছে বিভিন্ন হাসপাতাল। বিভিন্ন চেকআপের বিল কিন্তু অনেক বেশি। আপনি একটা চেকআপ করতে দেন- ইউরিন চেকআপ করেন, ব্লাড চেকআপ করেন, কথায় কথায় চেকআপ হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু তাদের যে বিল, তাদের যে হাসপাতালের বিল, তাদের বিভিন্ন পরীক্ষার যে বিল এটি সম্পূর্ণ একটি ডাকাতির মতন কিন্তু, এটি হতে পারে না।”

হাসপাতালগুলো বিভিন্ন সেবার বিপরীতে বেশি বিল আদায় করলেও নিজেদের চিকিৎসাবর্জ্যগুলো ঠিকমত ব্যবস্থাপনা করছে না বলে জানান উত্তরের মেয়র আতিক।

তিনি বলেন, “তারা বিল নেবে কিন্তু তাদের বর্জ্যগুলো কি ঠিকমত ফেলছে? তারা তাদের বর্জ্যগুলো ঠিকমত ফেলছে না, এটি মনিটরিং করা হচ্ছে না। যত্রতত্রভাবে তারা তাদের বর্জ্যগুলোকে।

“আমি নিজে দেখেছি, আমার কাছে ছবি আছে যে বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতালে ট্রিটমেন্ট করার পরে ইউরিন, ব্লাড, স্টুলের স্যাম্পল রাস্তার উপর ফেলে দিয়েছে, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক, এটিই হল বাস্তবতা। তাই ক্লিয়ার মেসেজ দেওয়া দরকার, কোনো ধরনের বর্জ্য রাস্তায় তো ফেলার প্রশ্ন ওঠে না আইনকেও তারা বৃদ্ধাগুলি দেখাচ্ছে।”

কবে থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলোকে যার যার চিকিৎসাবর্জ্য ফেলতে হবে, সেই তারিখ বেঁধে দেওয়ার ছাড়া অন্য বিকল্প নেই বলে মত দেন মেয়র আতিক। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “আজকের মিটিং থেকে ডেট নির্দিষ্ট করে দিন। আমি দেখেছি সরকারি হাসপাতালোর পেছনে খোলা জায়গায় তাদের বর্জ্য পোড়ানো হচ্ছে, এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। “সরকারি হাসপাতালই যদি করে, আমি তো অন্য হাসপাতালের কথা বললাম না, উনারা পোড়ান না আবার, উনারা লুকিয়ে লুকিয়ে কখন যে অজান্তে কোন খালেবিলে ফেলে দেয় তাও কিন্তু আমরা জানি না।

“আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারা অনেক বড়লোক হচ্ছে ভালো কথা, কিন্তু তারা তাদের নিয়ম মেনে চলছে না, তাদেরকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতেই হবে।”

‘সবকিছুই অবৈধ হয়ে যাচ্ছে’

ঢাকায় যারা অবৈধভাবে বিলবোর্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা করেছেন, সেগুলো আর রাখতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিক।

ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, “সবকিছুই কিন্তু অবৈধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের লাইন অবৈধ, ইলেকট্রিক লাইন অবৈধ, বিলবোর্ড অবৈধ, সাইনবোর্ড অবৈধ, রাস্তার মধ্যে যত ধরনের রড, সিমেন্ট, বালি সবই অবৈধ। “এটা কিন্তু আর দেওয়া যাবে না মাননীয় মন্ত্রী। তাই আজকের মিটিং থেকে একটা মেসেজ দেওয়া দরকার যারা অবৈধভাবে একটার পর একটা কাজ করে যাচ্ছে তাদের জন্য মেসেজ।”

অবৈধ বিলবোর্ড সরাতে অভিযানে নামার পর এখন অনেকই বিলবোর্ডের বিল দিতে চাচ্ছে জানিয়ে আতিক বলেন, আমার মনে হয় এ রকম সমন্বিতভাবে অভিযান দারকার। “যারা রাস্তায় কোনো ধরনের মেডিকেল বর্জ্য, ইট ইজ এ কিলার। মেডিকেল বর্জ্যটা সাইলেন্ট কিলার, আমাদের কিল করে দিচ্ছে কিন্তু। বর্জ্যগুলোকে কোন জায়গায় ফেলব, কোথায় রাখব, এসব শৃঙ্খলার মধ্যে আনা দরকার।”

কবে থেকে অভিযান চালানো শুরু হবে সেই তারিখ দিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, “আমি মনে করি অভিযানের কোনো বিকল্প নেই।” গুলশান লেকের পানির অবস্থা খারাপ হওয়ায় এবার মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে সেখানে মাছের পোনা অবমুক্ত করা যায়নি জানিয়ে মেয়র আতিক বলেন, পরে একটি পুকুরে সেই পোনা ছাড়া হয়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading