কাটা ক্যাবল জোড়া দিয়ে ব্যবহার!
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ০৫ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৩:৪২
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি) রাজধানীতে অবৈধ ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে । এই অভিযান শেষ হতে না হতেই ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ীরা কাটা ক্যাবল জোড়া দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় অপারেট করছেন। এ অবস্থায় ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে অভিযান কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ক্যাবল অপারেটরের মালিকরা বলছেন, বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে অভিযান করায় বাধ্য হয়েই তারা আগের মতোই ক্যাবল অপারেট করছেন। আর সিটি করপোরেশন বলছে, ক্যাবল ব্যবসায়ীরা করপোরেশনের ল্যাম্পপোস্টসহ সম্পদ ব্যবহার করে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা করপোরেশনকে রাজস্ব দিচ্ছে না। তাই রাজস্ব বৃদ্ধি ও দৃষ্টিনন্দন নগরী সাজাতে তারা এই অভিযান পরিচালনা করছে। ৎ
জানা গেছে, রাজধানীর প্রায় প্রতিটি সড়কেই ঝুলছে তারের জঞ্জাল। ইন্টারনেট ও ডিশ ব্যবসায়ীদের লাগানো এসব তার জমাট বেঁধে বিদ্যুতের খুঁটি ও ল্যাম্পপোস্টের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ঝুলন্ত এসব তার যেমন পথচারীদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে তেমনি নগরীর শ্রীহানি হচ্ছে। বছরের পর বছর এভাবে চলে আসলেও বিকল্প কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় বিভিন্ন সময়ে এসব অবৈধ ও ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
গত ৫ আগস্ট থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জঞ্জাল সরাতে তার কাটা শুরু করেছে। উত্তর সিটি করপোরেশনও গত ১ অক্টোবর থেকে অভিযান শুরু করে। দুই সিটি মেয়রের ঘোষণা নগরীতে তারা কোনও ঝুলন্ত তারের বোঝা রাখবেন না। ঘোষণা অনুযায়ী নগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযানও শুরু করে সিটি করপোরেশন।
সরেজমিন দেখা গেছে, গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ডিএসসিসির সিআর দত্ত সড়কে (কাঁঠালবাগান ঢাল) ঝুলন্ত তারের বিরুদ্ধে অভিযান করা হয়। এসময় সড়কটির বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ঝুলে থাকা বিপুল পরিমাণ তার কেটে দেওয়া হয়। এসময় কেটে দেওয়া তার সড়কের ওপর পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিকাল চারটার দিকে ব্যবসায়ীদেরকে ফের ক্যাবল জোড়া-তালি দিতে দেখা গেছে।
জানতে চাইলে সিরাজ উদ্দিন নামে একজন ক্যাবল শ্রমিক বলেন, কোনও নোটিশ বা বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া সিটি করপোরেশন এসে এভাবে আমাদের হাজার হাজার টাকার ক্যাবল কেটে দিয়েছে। তারা যদি বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করে না দেয় তাহলে মানুষ কীভাবে সেবা পাবে? তারা মাটির নিচে ব্যবস্থা করে দিক। তাহলে তো আমাদের আর ঝুলন্তভাবে অপারেট করতে হতো না।
নগীর অন্যান্য এলাকাতেও দেখা গেছে, সিটি করপোরেশনের কর্মীরা বিভিন্ন সড়কের ঝুলন্ত তার কেটে দিচ্ছেন। আর অভিযান শেষ হলেই সেই তারে জোড়া লাগিয়ে দিচ্ছে ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ফলে করপোরেশনের মূল উদ্দেশ্য হাসিল হচ্ছে না।
ক্যাবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইন, ২০০৬ এর ২৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ‘সেবাপ্রদানকারী ক্যাবল সংযোগের কাজে কোনও সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার স্থানীয় কার্যালয়ের লিখিত অনুমোদন ব্যতীত কোনও স্থাপনা ব্যবহার বা সুবিধা গ্রহণ করিতে পারিবে না। আইনের উপ-ধারা ২৮ (২) অনুসারে, যদি কোনও ব্যক্তি এই আইনের অধীন কোনও অপরাধ করেন, তাহা হইলে তিনি অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা কিন্তু অন্যূন ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয়দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং অপরাধ পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে তিনি অনধিক তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন।’ এই আইনের ভিত্তিতে ক্যাবলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছে সিটি করপোরেশন।

