সংঘাতে আরও ৪০ আর্মেনীয় সেনা নিহত

সংঘাতে আরও ৪০ আর্মেনীয় সেনা নিহত

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৬:০৬

বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের দশম দিনে মঙ্গলবার আরো ৪০ জন আর্মেনীয় সেনা নিহত হয়েছেন। সে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে পাবলিক রেডিও অব আর্মেনিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ নিয়ে যুদ্ধে আর্মেনীয় সেনাদের মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৯১ জনে দাঁড়িয়েছে।

নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি আজারবাইজানের ভেতরে হলেও আর্মেনিয়া সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করছে আর্মেনীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ১৯৮০-এর দশকের শেষদিকে অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। ১৯৯১ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মুহূর্তে সংঘর্ষ চূড়ান্ত আকার ধারণ করে। ১৯৯৪ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আগ পর্যন্ত এই সংঘর্ষে ৩০ হাজার মানুষ নিহত হয়। ২০১৬ সালের শুরুতে আবার সংঘাতে জড়ায় দুই পক্ষ। সর্বশেষ পুরনো সংঘাত ২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) থেকে নতুন করে শুরু হয়েছে।

আর্মেনিয়া সাবেক সোভিয়েত দেশগুলোর সামরিক জোটের সদস্য। এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে রাশিয়া। এদিকে আর্মেনিয়ার সঙ্গে বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক থাকা তুরস্ক আজারবাইজানের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আজারবাইজানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে আর্মেনিয়ার প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে শুরু হওয়া আজারবাইজান-আর্মেনিয়া সংঘাতের শুরু থেকেই রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। এমন অবস্থায় শুক্রবার (২ অক্টোবর) আর্মেনিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ফ্রান্স, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কাজ শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে তারা। তবে সংঘাতে আজারবাইজানকে সমর্থন জানানো তুরস্ক যুদ্ধবিরতির আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা আবারও দাবি করেছে, বিরোধপূর্ণ অঞ্চল থেকে আর্মেনিয়াকে সরে যেতে হবে।

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বলেছেন, আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে নাগোরনো-কারাবাখ ঘিরে সাম্প্রতিক যে সংঘাত শুরু হয়েছে, তিনিই (এরদোয়ান) এর প্রধান উসকানিদাতা এবং হোতা। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর অভিযোগের সঙ্গে সুর মিলিয়ে আসাদ বলেন, নাগোরনো-কারাবাখ সংঘাতে লড়তে সিরীয় জিহাদিদের মোতায়েন করেছে তুরস্ক। তবে এই অভিযোগের ব্যাপারে কোনও ধরনের প্রমাণ দিতে পারেননি সিরীয় প্রেসিডেন্ট। আঙ্কারা এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আর্মেনিয়াও অভিযোগ করেছে, কারাবাখ সংঘাতে আজারবাইজানকে শক্তিশালী করতে উত্তর সিরিয়া থেকে ভাড়াটে সেনা পাঠিয়েছে তুরস্ক। তবে আঙ্কারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading