অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:৩৩

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) জুলাই মাসের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাকালে নেওয়া ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের প্রকৃত মিটার রিডিং নিয়ে সমন্বয় করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আগামী দুই মাসের মধ্যে বিল সমন্বয় করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল আদায় করায় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া। পরে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘২০২০ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি যেগুলো আছে, প্রকৃত মিটার রিডিং ছাড়াই তারা ভৌতিক বিল আদায় করেছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। এ বিষয়ে জুন মাসে বাংলাদেশ কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে (বিইআরসি) চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল আদায় যেন তারা স্থগিত রাখেন। এ চিঠিতে তারা কর্ণপাত করেননি। পরে জুলাই মাসে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ বিল সমন্বয়ের জন্য। কিন্তু তারা জানায় কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিল সমন্বয় করা হবে না’।

পরে গত ৫ অক্টোবর গ্রাহকদের অতিরিক্ত বিল সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন এ রিট দায়ের করেন।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া বলেন, ‘হাইকোর্ট রুলে বলেছেন, বিইআরসির মাধ্যমে লাইসেন্সগুলোর ভৌতিক বিল আদায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিআরআইসি আইন ২০০৩ এর ৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না করা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রুলের পাশাপাশি হাইকোর্ট নির্দেশনা দিয়েছেন যে, বিইআরসি ১৬ জুলাই অস্বাভাবিক যেসব বিল আদায় করা হয়েছে, সেগুলো সমন্বয় করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া দিয়েছিল। এই আদেশের অনুকরণে প্রকৃত মিটার রিডিং নিয়ে গ্রাহকদের বিল সমন্বয় করে আগামী দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই প্রতিবেদন ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্তৃপক্ষ জমা দেবেন’।

গত ২৩ আগস্ট করোনার সময়ে মিটার রিডিং না দেখে করা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল গ্রাহকদের থেকে আদায় বন্ধে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়। আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনের পক্ষে এ নোটিশ পাঠান।

বিদ্যুৎ, বিভাগের সচিব, এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ডিপিডিসি ও ডেসকোসহ সংশ্লিষ্টদের এ নোটিশ পাঠানো হয়।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading