কারাগারেই মৃত্যু হল রণদা প্রসাদের হত্যাকারীর
উত্তরদক্ষিণ | শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৬:২০
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাহবুবুর রহমান গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন।কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শফিকুল ইসলাম জানান, ৭২বছর বয়সী মাহবুবুর আগে থেকেই বিভিন্ন অসুস্থতায় ভুগছিলেন।
“শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
মুক্তিযুদ্ধের সময় দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে হত্যা ও গণহত্যার দায়ে গতবছর ২৭ জুন মাহবুবুর রহমানের ফাঁসির রায় দেয় যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
সেই রায়ের পর থেকে মাহবুবুর রহমান কাশিমপুর কারাগারেই ছিলেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জেল সুপার শফিকুল ইসলাম জানান।
মাহবুবুরের বাবা আব্দুল ওয়াদুদ একাত্তরে ছিলেন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর শান্তি কমিটির সভাপতি। মাহবুবুর ও তার ভাই আব্দুল মান্নান সে সময় রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিয়ে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটান বলে ট্রাইব্যুনালের বিচারে উঠে আসে।
অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, হত্যা-গণহত্যার তিন অভিযোগে তার সর্বোচ্চ সাজার রায় দেয় আদালত। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কেবল ব্যক্তি বা পরিবার নয়, মাহবুবুর রহমানের উদ্দেশ্য ছিল ‘পুরো হিন্দু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা’।
ওই মামলার নথিপত্রের বিবরণ অনুযায়ী, মাহবুব একসময় জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হলেও প্রতিবারই পরাজিত হন।

