দুর্দান্ত বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন রুবেল

দুর্দান্ত বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন রুবেল

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৮:৪২

দুর্দান্ত বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন রুবেল হোসেন। আগের দুই ম্যাচে ৩টি করে উইকেটের পর এবার তার শিকার ৪টি। প্রেসিডেন্ট’স কাপে প্রথমবার খেলতে নেমে দলের বিপর্যয়ে লড়িয়ে ফিফটি উপহার দিলেন ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন।

এই টুর্নামেন্টের পঞ্চম ম্যাচে সোমবার (১৯ অক্টোবর) তামিম ইকবাল একাদশ ৫০ ওভারে করেছে ৮ উইকেটে ২২১ রান। ফাইনাল খেলতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে।

টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানদের বাজে শটের মহড়ায় ১৭ রানেই ৪ উইকেট হারিয়েছিল তামিম একাদশ। পঞ্চম উইকেটে ১১১ রানের জুটিতে দলকে টেনে নেন ইয়াসির ও অঙ্কন। ৮১ বলে ৬২ রান এসেছে ইয়াসিরের ব্যাট থেকে, ১১০ বলে ৫৭ অঙ্কন। শেষ দিকে কার্যকর দুটি ইনিংস খেলেছেন সাইফ উদ্দিন ও মোসাদ্দেক হোসেন।

৩৪ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। এই টুর্নামেন্টে এখনও পর্যন্ত এটি ব্যক্তিগত সেরা বোলিং। রুবেলের এই ৪ উইকেটই অবশ্য ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে পাওয়া উপহার। তবে শেষ দুই ওভার বাদ দিলে তার বোলিং ছিল দুর্দান্ত। ম্যাচের প্রথম বলে লেগ স্টাম্পে বল করে চার খেয়েছিলেন, তারপরও প্রথম স্পেল ছিল ৫-৩-৫-৩!

উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামেন তামিমরা। টুর্নামেন্টের ৫ ম্যাচে প্রথমবার টস জিতে ব্যাটিং নিল কোনো দল। কিন্তু একের পর এক আত্মঘাতী শটে সেই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলেন তারা। একেকজন যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন, কে কতটা বাজে শট খেলতে পারেন।

দুই তামিমের জুটি আগের দুই ম্যাচে টিকতে পারেনি দুই ওভারও। এই ম্যাচে দুই ওভার টিকে তৃতীয় ওভারেই শেষ। রুবেলের অনেক বাইরের বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলে তানজিদ তামিম তুলে দেন স্লিপে নাঈম শেখের হাতে।

তামিম ইকবাল যে বলে আউট হলেন, আবু হায়দারের সেই ডেলিভারি না খেললে হয়তো ওয়াইড হতো। অনেক কষ্টে বলে ব্যাট ছুঁইয়ে তামিম ক্যাচ দেন পয়েন্টে। এনামুল হক ও মোহাম্মদ মিঠুনও একই পথের পথিক। রুবেলের বেশ বাইরের বল শর্ট কাভারে তুলে দেন এনামুল, কিপারের গ্লাভসে মিঠুন।

নবম ওভার তখন চলছে, স্কোরবোর্ডে রান মোটে ১৭, উইকেট নেই ৪টি। সেই বিপর্যয় থেকে ইয়াসির ও অঙ্কনের জুটি উদ্ধার করে দলকে। আবু হায়দারের বলে দারুণ এক অন ড্রাইভে চার মেরে শুরু করেন ইয়াসির। এরপর রান পেতে ভুগেছেন অনেকক্ষণ। কিন্তু হাল না ছেড়ে লড়ে গেছেন। শুরুতে টাইমিং ঠিকঠাক না হলেও লড়াই করে গেছেন অঙ্কনও।

সময়ের সঙ্গে থিতু হয়ে এক-দুই করে রান নিতে শুরু করেন দুজন। সুযোগ পেলে খেলেন বড় শট। মেহেদী হাসান মিরাজকে লং অন ও লং অফ দিয়ে দুটি ছক্কায় ওড়ান অঙ্কন, মাহমুদউল্লাহকে ওয়াইড লং অন দিয়ে ইয়াসির।

ফিফটির পর ইয়াসির রানের গতি বাড়াতে শুরু করেছিলেন আরও। দৃষ্টিনন্দন দুটি ইনসাইড আউটে বাউন্ডারিও মারেন। বড় কিছুর জন্য যখন তাকে মনে হচ্ছিল তৈরি, তখনই রান আউট হয়ে যান ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে।

অঙ্কন ফিফটি স্পর্শ করেন ১০৩ বলে। রান-বলের ওই ব্যবধান আর পরে কমাতে পারেননি তিনি। রুবেলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন স্কয়ার লেগে। মোসাদ্দেক হোসেন ও সাইফ উদ্দিনের জন্য তখন ঝড় তোলার মঞ্চ প্রস্তুত। কিন্তু ছন্দ পেতে একটু সময় নেন দুজনই। সাইফ পরে দুর্দান্ত কিছু শট খেলেন, ইবাদতকে ছক্কায় ওড়ান পুল শটে। শেষ দুই ওভারে গিয়ে দ্রুত রান বাড়ান মোসাদ্দেক। ইবাদতের করা শেষ ওভারে আউট হন দুজনই। ২৯ বলে ৩৮ করেন সাইফ, ৩৯ বলে ৪০ মোসাদ্দেক।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

তামিম একাদশ: ৫০ ওভারে ২২১/৮ (তামিম ৯, তানজিদ ১, এনামুল ১, ইয়াসির ৬২, মিঠুন ২, অঙ্কন ৫৭, মোসাদ্দেক ৪০, সাইফ উদ্দিন ৩৮, মেহেদি ১, তাইজুল ০; রুবেল ১০-৩-৩৪-৪, আবু হায়দার ১০-০-৪০-১, ইবাদত ১০-১-৬০-২, রকিবুল ১০-০-৩২-০, মিরাজ ৫-০-৩০-০, মাহমুদউল্লাহ ৫-০-২৩-০)।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading