৬ মণ কয়েন: বিপাকে খবির
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৯:২০
দরিদ্র ভিক্ষুকদের হাত পেতে আনা এক টাকার কয়েন অন্য ব্যবসায়ীরা না নিলেও মানবতা বিবেচনায় কাউকেই ফিরিয়ে দেননি সবজি বিক্রেতা খবির। তিনি অসহায়ের সহায় হয়ে আজ নিজেই অসহায়। দরিদ্রঘরে জমেছে এক টাকার কয়েনের পাহাড়। গচ্ছিত কয়েনের ওজন প্রায় ৬ মণ। টাকার অঙ্কে প্রায় ৬০ হাজার। এই মোটা অঙ্কের অর্থ কোনো উপকারেই আসছে না তার।
১০ বছর ধরে ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১ টাকা ও ২ টাকার ধাতব মুদ্রা জমে আছে তার কাছে। এ সব মুদ্রার লেনদেন সরকার বাতিল না করলেও খরিদ্দাররা আর নিতে চান না। কার্যত অচল বিপুল পরিমাণ কয়েন এখন তিনি কী করবেন বুঝতে পারছেন না।
খবিরের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সদরের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। তিনি উপজেলা সদর বাজারের সবজি ব্যবসায়ী। খবির জানান, ২৫ বছর ধরে সবজির ব্যবসা করেন। শেষ ১০ বছরে তার কাছে প্রায় ছয় মণ ওজনের কয়েনগুলো জমে যায়। এক সময় ক্রেতারা সবজির দাম হিসেবে তাকে কয়েন দিয়েছেন, তিনিও নিয়েছেন এবং ধীরে ধীরে সেগুলো জমিয়েছেন। তখন ভাবতে পারেননি এ্ কয়েন আর চলবে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খবিরের ছোট্ট বসতঘরের মেঝে জুড়ে প্লাস্টিকের চারটি বালতি আর দুই বস্তা বোঝাই শুধু কয়েন আর কয়েন। একেকটি পাত্রের ওজন একমণের ওপরে। একসময় কয়েনগুলো বাজারে রাখলেও এখন বাড়িতে এনে রেখেছেন। অনেক জায়গায় ঘুরেও কয়েনগুলো চালাতে পারেননি। কোনো ব্যাংক এই কয়েন নিতে চায়নি। আক্ষেপ করে খবির বলেন, তার ব্যবসার মোট পুঁজির তিনের দুই ভাগ কয়েনের মধ্যে চলে গেছে।
মহম্মদপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মোল্যা বলেন, খবিরের কয়েন নিয়ে বিপাকে পড়ার বিষয়টি তারা জানেন। কিন্তু কী করবেন? লেনদেনে ধাতবমূদ্রার ব্যবহার নেই বললেই চলে। মাগুরা সোনালী ব্যাংকের সহকারী জেলারেল ম্যানেজার (এজিএম) মো. রশিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনবেন।

