দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলের

দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলের

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২০ | আপডেট: ১৪:৫৫

দেশের বাজারে দাম বেড়েছে ভোজ্যতেলের; ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার কারণে সয়াবিন ও পাম তেলের দাম লিটারে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি খোলা পাম তেল ৯০ টাকা আর সয়াবিন তেল ১০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর বোতলজাত তেল বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা লিটার দরে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রতি ব্যারেল সয়াবিন তেলের দাম ১৭ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ প্রতি ব্যারেল ১৮ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে। একটি সয়াবিন তেলের ব্যারেল বা ড্রামে ২০৪ লিটার তেল থাকে। সেই হিসাবে প্রতি লিটারের কেনা মূল্য প্রায় ৮৯ টাকা।

ঢাকার মৌলভীবাজারে পাইকারি ভোজ্যতেল বিক্রেতা ও পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বলেন, সয়াবিন তেলের পাইকারি দাম এখনও ৩৫৫০ টাকার মধ্যে আছে। কিন্তু মিল গেইটে প্রতি মণের দাম চাওয়া হচ্ছে ৩ হাজার ৭০০ টাকা।

ব্যবসায়ী হাশেমের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পাইকারিতে প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম রয়েছে ৮৮ টাকা ৭৫ পয়সা। আর মিল মালিকরা নতুন দাম চাচ্ছেন ৯২ টাকা ৫০ পয়সা। এর সঙ্গে যোগ হবে পরিবহন ব্যয় ও লভ্যাংশ।

সম্পূর্ণ আমদানি নির্ভর এই পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল হলেই কেবল দেশের বাজার আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে আপতত দাম আর না বাড়ানোর বিষয়ে সরকারকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেল পরিশোধন ও বিপণন কোম্পানিগুলো। মিল গেইটে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ৯০ টাকা আর পাম তেল ৮০ টাকা করে বিক্রির কথা জানিয়েছে তারা।

প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোতে সয়াবিনের মজুদ কমে যাওয়ার কারণেই মওসুমের শেষ দিকে এসে পণ্যটির দাম বেড়ে যাচ্ছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা। আর ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক পাম তেলের দাম বাড়ছে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে।

বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাফা হায়দার জানান, “আন্তর্জাতিক বাজার ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার কারণে দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। আমেরিকার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে চীন আমেরিকার বাজার থেকে সরে গিয়ে লাতিন আমেরিকার বাজারগুলো থেকে সয়াবিন তেল কিনছে। এমনকি তারা আন্তার্জাতিক বাজারের ৫০ শতাংশই বুক করে ফেলেছে বলে শোনা যাচ্ছে।”

ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনায় সয়াবিনের মজুদ কমে যাওয়া ও খরায় নতুন আবাদ বিলম্বিত হওয়ার কারণেও দাম বাড়ছে। ব্রাজিল কিছুটা চড়া দামে পণ্য দিলেও আর্জেন্টিনা আপতত রপ্তানিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলে জানান মোস্তফা।

তিনি বলেন, “এসব কারণে বাজার বেশ অস্থিতিশীল। এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা যতটা সম্ভব দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকারকে। ভবিষ্যতে বাজারে দাম আরও বাড়তে পারে। তবে চীন ব্যাপক হারে আমাদানি নীতি থেকে সরে এলে দাম আবার আগের অবস্থায়ও ফিরে যেতে পারে।”

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading