শুটকি শিল্পের জন্য ১৯৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ০৪ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০৮:২৫
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মঙ্গলবার (০৩ নভেম্বর) মাছের অপচয় কমিয়ে মানসম্পন্ন শুটকি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলায় শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপনের জন্য ১৯৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পসহ মোট চার প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।
একনেক চেয়ারপার্সন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত চলতি বছরের একনেকের ১৪তম সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এবং একনেকের অন্য সদস্যরা এনইসি ভবন থেকে যুক্ত ছিলেন।
সভা শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনার বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম বলেন, আজ চারটি মন্ত্রণালয়ের চারটি প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। প্রকল্পের মোট আনুমানিক ব্যয় ২ হাজার ৪৫৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা (দুটি সংশোধিত প্রকল্পের অতিরিক্ত ব্যয়সহ) ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৩১ লাখ, সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন ১৮২ কোটি ১৪ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ৬০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
সচিব বলেন, ‘কক্সবাজার জেলায় শুটকি প্রক্রিয়াকরণ শিল্প স্থাপন প্রকল্পটি ১৯৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’
বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল মৌজায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে মানসম্পন্ন শুটকি উৎপাদন, অপচয় হ্রাস, শুটকির উৎপাদন বৃদ্ধি এবং শুটকি সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি করা।
একনেক ‘যমুনা নদীর ডানতীর ভাঙন থেকে সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলাধীন সিংড়াবাড়ী, পাটগ্রাম ও বাঐখোলা এলাকা সংরক্ষণ’ প্রকল্পও অনুমোদন দিয়েছে। এতে খরচ হবে ৫৬০ কোটি সাত লাখ টাকা।

২০২০ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
অন্য দুটি প্রকল্প হলো- ৫৫১ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘পাঁচদোনা-ডাঙ্গা-ঘোড়াশাল জেলা মহাসড়কে একস্তর নিচু দিয়ে উভয় পার্শ্বে পৃথক সার্ভিস লেনসহ ৪-লেনে উন্নীতকরণ (ডাঙ্গা বাজার-ইসলামপুর লিংকসহ)- প্রথম সংশোধিত’ প্রকল্প এবং ১ হাজার ১৪৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘আমিনবাজার-মাওয়া-মংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন- প্রথম সংশোধিত’ প্রকল্প।
সচিব জানান, পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রধান নদীগুলোতে ড্রেজিংয়ের সঠিক পরিকল্পনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সেই সাথে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ড্রেজিং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প শিগগিরই একনেকে উপস্থাপন করতে এবং ড্রেজিং নিয়ে স্থায়ী পরিকল্পনা বা ব্যবস্থা দিতে বলেছেন।
নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্প শেষ করতে পুনরায় জোর দিয়েছ্নে প্রধানমন্ত্রী। -ইউএনবি

