টাঙ্গাইলে দুদকের ভুয়া মহাপরিচালক আটক
উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৬:৪১
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক পরিচয়ে টাঙ্গাইলে জমি সংক্রান্ত বিষয়ে অনৈতিক তদবিরের ঘটনায় মো. কামাল উদ্দিন নামে এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে টাঙ্গাইলের একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত।
জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মো. কামাল উদ্দিন টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (০৪ নভেম্বর) জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে বুধবার (০৪ নভেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, টাঙ্গাইলের ডাটা এন্ট্রি কন্ট্রোলার অপারেটর মো. মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইল সদর থানায় এই মর্মে জিডি করেন যে, জনৈক ব্যক্তি মোবাইল নং-০১৬১১৫২৭৭৬৯ ও ০১৬১৫২১২২৮৮ এর মাধ্যমে দুদকের ডিজি মো. জাকির হোসেন পরিচয় দিয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর দাপ্তরিক টেলিফোনে জমি সংক্রান্ত একটি বিষয়ে অনৈতিক তদবির করছেন। প্রকৃতপক্ষে দুদকের মহাপরিচালক জাকির হোসেন এ জাতীয় টেলিফোন করেননি।
এই জিডিতে আরো বলা হয়, এ জাতীয় কার্যকলাপ প্রশাসনিক কাজে যেমন জটিলতা সৃষ্টি করে, তেমনি দুদকের ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসন ও দুদক বিশেষ কৌশলে এই প্রতারক দলের সদস্য টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার মো. কামাল উদ্দীনকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে আটক করে। এরপর স্থানীয় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট- প্রতারক মো. কামাল উদ্দীনকে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং কারাগারে পাঠান।
এ সংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়, দুদক কর্মকর্তা এমনকি দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ব্যবহার করে এক বা একাধিক প্রতারকচক্রের সক্রিয়তা সতর্ক করে দুদক থেকে অসংখ্যবার গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। এ জাতীয় অভিযোগে ইতিমধ্যেই বেশকিছু ব্যক্তিকে আইনি আমলে আনা হয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দুদক দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলতে চায়, দুদক একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে নির্মোহভাবে আইনি দায়িত্ব পালন করে। এ প্রতিষ্ঠানে কোনো ব্যক্তির একক অভিপ্রায় অনুসারে কাউকে যেমন অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই, আবার কাউকে দায়মুক্তি দেওয়ারও সুযোগ নেই। তাই কোনো অবস্থাতেই এসব প্রতারকের কথায় বিভ্রান্ত না হয়ে প্রয়োজনে দুদকের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী (মোবাইল নং- ০১৭১১৬৪৪৬৭৫) ও পরিচালক (মিডিয়া) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্কে এসব বিষয়ে টেলিফোনে অবহিত করুন। এ ছাড়া স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে জানানো যেতে পারে।

