মাঠে ফিরেই জয়ের স্বাদ পেলেন সাকিব
উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:৪৮
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান ৪০৮ দিন পর মাঠে ফিরেই জয়ের স্বাদ পেলেন। বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে তামিম ইকবালের ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ৪ উইকেটে জিতেছে মাহমুদউল্লাহরা। আরিফুল হকের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শেষ ওভারে ১৫৩ রানের লক্ষ্য টপকে গেছে জেমকন খুলনা।
মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) শেষ ওভারে জিততে খুলনার দরকার ছিল ২২ রান। কঠিন এই সমীকরণে শেষ ওভারে ৪ ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। মেহেদী হাসান মিরাজের ওপর ঝড় বইয়ে দিয়ে এক বল আগেই অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দিয়েছেন তিনি খুলনাকে। প্রথম দুই বলে ছক্কা মারার পর তৃতীয় বল যায় ডট, এরপর আবারও টানা দুই ছয়ে আরিফুল নিশ্চিত করেন দলের জয়।
এই ম্যাচ দিয়েই মাঠের ক্রিকেটে ফিরলেন সাকিব ফলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে খুলনা-বরিশালের ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। একবছরের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তন ‘মঞ্চ’টি আলোকিত করলেন আরিফুল। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ৩৪ বলে হার না মানা ৪৮ রানের ইনিংসে জটিল সমীকরণ মিলিয়ে জয়ের আনন্দে মাতিয়েছেন তিনি খুলনাকে। তাতে বরিশালের ৯ উইকেটে করা ১৫২ রান ৬ উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায় মাহমুদউল্লাহরা।
শুরুতে বিপর্যয়ে পড়ে হারের শঙ্কা জেগেছিল খুলনার। বরিশালের পেসার তাসকিন আহমেদের গতির সামনে দাঁড়াতেই পারেননি দুই ওপেনার এনামুল হক (৪) ও ইমরুল কায়েস (০)। প্রথম ওভারেই ফিরে যান তারা।
তৃতীয় উইকেটে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফেরা সাকিবকে নিয়ে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন মাহমুদউল্লাহ। যদিও মাত্র ২৮ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন খুলনা অধিনায়ক। অফস্পিনার মিরাজের বলে লং অনে পারভেজ হোসেন ইমনের তালুবন্দী হন মাহমুদউল্লাহ। সঙ্গী হারানোর ৪ বল পর ফিরে যান সাকিবও। বল হাতে ১ উইকেট নেওয়া সাকিব ব্যাট হাতে খেলেছেন ১৫ রানের ইনিংস।
দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে হারিয়ে বিপদ আরও বাড়ে খুলনার। তবে জহুরুল ইসলাম ও আরিফুল মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। যদিও জহুরুল ২৬ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তবে শুরুতে মন্থর ব্যাটিং করা আরিফুল শেষ ওভারে দেখিয়েছেন ম্যাজিক।
শেষ ওভারে খুলনার প্রয়োজন ছিল ২২ রান। বোলিং প্রান্তে আগের তিন ওভারে মাত্র ১২ রান দেওয়া মিরাজ। প্রথম বলেই লং অন দিয়ে ছক্কা হাঁকালেন। পরের বলে একই শটে আবারও বড় ছক্কা। তৃতীয় বলটি সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি আত্মবিশ্বাসী আরিফুল। চতুর্থ ও পঞ্চম বলে আবারও মিড উইকেট দিয়ে দুই ছক্কায় ১ বল হাতে রেখে জয় তুলে মাঠ ছাড়েন এই ব্যাটসম্যান। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংস খেলে বরিশাল বধের নায়ক তিনিই।
আরিফুলকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের অলরাউন্ডার শামীম হোসেন। ১৮ বলে ১ চার ও ১ ছক্কায় শামীম করেন ২৬। খুলনার জয়ের পেছনে এক ছক্কায় শহিদুলের ৮ রানের ইনিংসের গুরুত্বও কম নয়।
বরিশালের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল পেসার সুমন খান। ২১ রান খরচায় ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। তাসকিন ৩৩ রানে ২টি এবং মিরাজ ও কামরুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন।

