কাশ্মীরে বিপাকে যাযাবরেরা
উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১২:১৭
জম্মু-কাশ্মীরে যাযাবর গুজ্জর ও বকরওয়াল জাতির জীবন ও জীবিকার উপরে বড় আঘাত হানার অভিযোগ উঠেছে ইন্ডিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে। যাযাবর ও অরণ্যচারী গুজ্জর-বকরওয়াল সম্প্রদায় তফসিলি জনজাতির তালিকাভুক্ত। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরে তফসিলি জনজাতির মানুষের সংখ্যা ১৪ লক্ষ।
জম্মু-কাশ্মীরের যাযাবর গুজ্জর ও বকরওয়াল জাতির সদস্যেরা অরণ্যে থাকেন কয়েক পুরুষ ধরে। সম্প্রতি মধ্য কাশ্মীরের বদগামে তাদের বেশ কিছু মাটির তৈরি বাড়ি ভেঙে দিয়েছে বন অধিদফতর। সেইসঙ্গে কাটা হয়েছে বেশ কিছু আপেল ও উইলো গাছ। পহলগামের বাটেকোট এলাকাতেও ১৫০ জনজাতি পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিস দিয়েছে বন দফতর। সেখানেও গুজ্জর-বকরওয়ালদের বাড়ি ভাঙার ভিডিও ছড়িয়ে পরেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
বদগামের কানিডাজান গ্রামের বাসিন্দা মুখতা খাতানের বক্তব্য, ‘‘উচ্ছেদের নোটিস দেওয়ার পরে বন দফতর কেবল গাছ কাটল না। আমাদের কয়েকটা বাড়িও ভেঙে দিল। কয়েক শতাব্দী ধরে আমরা এই জমিতে থাকি। আমাদের পূর্বপুরুষেরা এই গাছগুলি পুঁতেছিলেন। সেগুলি কাটতে দেখে আমাদের বুক ফেটে গিয়েছে।’’
বদগামের ফরেস্ট অফিসার ইমতিয়াজ আহমেদের বক্তব্য, সর্বত্র অরণ্যভূমি দখলমুক্ত করা হবে।
পহলগাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সিইও মুশতাক সিমনানির বলেন, ‘‘অরণ্যের ক্ষতি না করে যাযাবরেরা ছোট ছোট জমিতে চাষ করতে পারেন। যে সব বাড়়িতে ওঁরা বাস করছেন সেগুলি আমরা ভাঙিনি। কিছু খালি বাড়ি ভাঙা হয়েছে।’’
জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল জহাঙ্গির গনাইয়ের বক্তব্য, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হওয়ার পরে সেখানে অরণ্যের অধিকার আইন কার্যকর হয়েছে। সেই আইনে কাদের অধিকার কতটা তা এখনও এখানকার বিশেষজ্ঞদের কাছেও স্পষ্ট নয়।’’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কানিডাজানের এক বাসিন্দা মানছেন তারা অরণ্যভূমিতে থাকেন। কিন্তু তার বক্তব্য, কাঠ আর ওষধি গুল্মের চোরাকারবারীদের হাত থেকে তারাই অরণ্যকে সন্তানের মতো রক্ষা করেছেন।
গুজ্জর সম্প্রদায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফারুক আহমেদ বাজাডের বক্তব্য, ‘‘আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ আর সুরক্ষিত নয়। আমরা যাব কোথায়? কার কাছে সাহায্য চাইব?’’ এই দুই যাযাবর জাতির সদস্যেরা পশুচারণের জন্য বসন্তে কাশ্মীরের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় আসেন। আবার পরের শীতে নেমে যান জম্মুর সমতলে। বাজাডের আশঙ্কা, পরের বার হয়তো কাশ্মীরের পাহাড়ে ফিরতেই দেওয়া হবে না তাদের।
জনজাতির অধিকার রক্ষা কর্মী জাভিদ রাহির জানান, ‘‘এখন যাযাবর জাতিভুক্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ২০ লক্ষ। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ জীবিকার জন্য অরণ্যের উপরে নির্ভরশীল।’’
গুজ্জর বকরওয়াল কনফারেন্সের নেতা বাশারত আলির দাবি, প্রাক্তন বনমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা লাল সিংহের আমলেই গুজ্জর-বকরওয়ালদের উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে। জম্মুতে বকরওয়াল জনজাতির এক কিশোরীর ধর্ষণ-খুনে জড়়িতদের সমর্থন করায় লাল সিংহকে মন্ত্রিপদ ও দল থেকে সরানো হয়।

