বিকাশ বন্ধের দাবি

বিকাশ বন্ধের দাবি

উত্তরদক্ষিণ | সোমবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১২:২১

‘গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে’ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ বন্ধের দাবি করেছেন মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। বিকাশ গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারকচক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ ও বিকাশের আয়-ব্যয়ের অডিট প্রকাশের দাবিতে শনিবার (০৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

দাবিগুলো হচ্ছে বিকাশের গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারকচক্রকে দ্রত গ্রেফতার করতে হবে। গ্রাহকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব দায়ভার মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিতে হবে। গ্রাহকদের সচেতনতার জন্য ব্যাপক পরিমাণ সচেতনমূলক প্রচারণা কার্যক্রম এমএফ.এস প্রতিষ্ঠানগুলোকে করতে হবে। রিটেইলারদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বিকাশের আয়-ব্যয়ের নিরপেক্ষ অডিট সম্পাদন করে গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। কারণ সর্বোচ্চ চার্জ নেওয়ার পর এই প্রতিষ্ঠান লোকসানে থাকার কথা নয়।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘গ্রাহককে নিরাপত্তা দেওয়া সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্যের অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইনে বলা আছে গ্রাহকদের নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকেই করতে হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয় যে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৫ কোটি গ্রাহক নিয়ে বিকাশ সেবা প্রদান করলে এ প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়া গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অসাধু প্রতারকদের হাতে প্রতারিত হচ্ছে। এ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পায়নি, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে অতি সাধারণ গ্রাহকরা।’

তিনি বলেন, ‘বিকাশ কর্তপক্ষ দায়সারা গোছের বিজ্ঞাপন প্রচার করেই ক্ষ্যান্ত হচ্ছেন। আজ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত কোনো গ্রাহক তার কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত পেয়েছে এমন নজির দেখা যায়নি। তাই গ্রাহকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার দায় বিকাশ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসাবে এড়াতে পারে না।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৯ নভেম্বর বিকাশ নিয়ে দুটো পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হয়। সেখানে দেখা যায়, ২০১৮ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা করেছিল ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। পরের বছর ২০১৯ সালে পরিচালন ব্যয় বাবদ লোকসান দিয়েছে ১৪৫ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। অথচ তার গ্রাহক ও লেনদেন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

২০১৯ সালে বিকাশ আয় করেছে ২ হাজার ৪১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে ছিল ২ হাজার ১২৮ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আয়ে প্রবৃদ্ধি হয় ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

২০১৯ সালে ব্যয় হয় ১ হাজার ৬৬১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশ। ২০১৮ সালে ব্যয় হয়েছিল মোট আয়ের ৭২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। আয়ের চাইতে ব্যয় বৃদ্ধি হয়েছে পাঁচ শতাংশের বেশি। ২০১৯ সালে বিকাশের গ্রাহক বৃদ্ধি পায় ২৩ শতাংশ। লেনদেন বৃদ্ধি পায় ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অর্থনীতির হিসাবে গ্রাহক ও লেনদেন বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে লাভ হওয়ার কথা থাকলেও বিকাশ লোকসান দেখাচ্ছে যা মোটেই কাম্য নয়।

২০১৯ সালে বিকাশ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের দিয়ে বিকাশ গ্রাহক অ্যাপসের নতুন সংস্করণ, বিকাশ এজেন্ট অ্যাপস চালু করে। যা তৈরি ও সংরক্ষণে বাংলাদেশের প্রকৌশলীদের নিযোগ দেওয়া হবে। ক্রমবর্ধমান গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন কাস্টমার কেয়ার তৈরি, মানি লন্ডারিং, সন্ত্রাসীদেও অর্থায়ন রোধকল্পে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিপুল সংখ্যক লোকবল নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাজেকুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সাহিদা বেগম এবং বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বুলু।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading