রাজনীতি থেকে বিদায়ই কি ট্রাম্পের ভবিতব্য?
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১১:০১
ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের পর এখনো চুপ করে আছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইলেকটোরাল কলেজের ভোটে জো বাইডেনের পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়া নিশ্চিত। তিনি ৩০৬টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন, বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ২৩২টি।
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানদের নেতা মিচ ম্যাককোনেল জো বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমনকি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও বাইডেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ।
এদিকে ট্রাম্প এখনো পরাজয় স্বীকার করেননি, বরং নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ করে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প বলছেন, আইনী লড়াই চলতে থাকবে এবং তিনি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যাবেন। যদিও সুপ্রিম কোর্টে এরকম কোন আপিল শোনা হবে কিনা এবং নির্বাচনী ফল উল্টে দিতে পারবে কিনা – তার কোন নিশ্চয়তা নেই।
তাহলে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরবর্তি পদক্ষেপ কি হবে? রাজনীতি থেকে বিদায় নেয়াই কি তার ভবিতব্য?
ট্রাম্পের সবচেয়ে বিশ্বস্ত এবং অনুগতদের একটি দল এখনো মনে করছেন – ৬ই জানুয়ারি একটি সুযোগ রয়েছে।
ইলেকটোরাল কলেজের ভোটের যে ফল জানা গেছে সোমবার (১৪ ডিসেম্বর)- সেটা আনুষ্ঠানিক ফল নয়।
এই ভোটের ফল পাঠানো হবে ফেডারেল রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে এবং আগামী ৬ জানুয়ারি ইলেকটোরাল ভোট আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা করা হবে কংগ্রেসের এক যৌথ অধিবেশনে।
ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।
আমেরিকার নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৬ই জানুয়ারির ঘটনাবলী হয়তো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোটের ফল উল্টে দেবার ক্ষেত্রে ‘শেষ সুযোগ’ এনে দিতে পারে।
এরকম একটা প্রয়াস নিচ্ছেন কয়েকজন সিনেটর এবং কংগ্রেস সদস্য। তারা আরিজোনা পেনসিলভেনিয়া, নেভাডা, জর্জিয়া ও উইসকন্সিন – এই রাজ্যগুলোতে অবৈধ ভোট ও জালিয়াতির লিখিত অভিযোগ জমা দেবেন – যেখানে অন্তত একজন সিনেটরের স্বাক্ষর থাকবে। এর লক্ষ্য হবে ওই রাজ্যগুলোর ভোট বাতিল করা।
আলাবামা রাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর মো ব্রূকস এদের একজন। মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমসকে তিনি বলছেন, মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী সেদিন সুপ্রিম কোর্টসহ যেকোন আদালতের বিচারকের চেয়ে বড় ভুমিকা আছে কংগ্রেস সদস্যদের ।
তিনি বলেন, “আমরা যা বলবো তাই হবে, সেটাই চূড়ান্ত”।
ব্রূকস বলছেন, “আমার এক নম্বর লক্ষ্য হলো আমেরিকার ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা – যা ভোট চুরিকে খুব সহজে মেনে নিচ্ছে – তা মেরামত করা।”
“আর এটা থেকে একটা বোনাস মিলে যেতে পারে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইলেকটোরাল ভোটে আনুষ্ঠানিকভাবে জিতে গেলেন। কারণ আপনি যদি অবৈধ ভোটগুলো বাদ দেন, এবং যোগ্য আমেরিকান নাগরিকদের আইনসঙ্গত ভোটগুলোই শুধু গণনা করেন – তাহলে তিনিই জিতেছেন।”
কিন্তু এই প্রক্রিয়া হবে জটিল এবং দীর্ঘ। প্রতিটি অভিযোগ নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দু’ঘন্টা করে বিতর্ক এবং ভোটাভুটি হতে হবে। কোন একটা রাজ্যের ইলেকটোরাল ভোট বাতিল করতে হলে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ এবং রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটকে একমত হতে হবে।
উনবিংশ শতাব্দীর পর কখনো এমনটা হয়নি। অনুমান করা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ ভোট বাতিলের চেষ্টা অনুমোদন করবে না।
তা ছাড়া রিপাবলিকান কয়েকজন সিনেটরও এভাবে ভোট বাতিলের প্রয়াস জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা এ চেষ্টার বিপক্ষে ভোট দিলেই জো বাইডেনের জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে।
তবে ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ভুমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ৬ জানুয়ারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবেন তিনি। তিনিই সাংবিধানিক দায়িত্ব অনুযায়ী ৫০টি অঙ্গরাজ্য থেকে পাঠানো ইলেকটোরাল ভোটের খামগুলো খুলবেন এবং তার যোগফল ঘোষণা করবেন।
১৯৬০ সালে রিচার্ড নিক্সন এবং ২০০০ সালে এ্যাল গোর-কে এভাবেই ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে তাদের নিজেদের পরাজয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বীর বিজয়কে প্রত্যয়ন করতে হয়েছিল।
তবে পূর্বে মাইক পেন্সের সিদ্ধান্তগত অবস্থানের দৃঢ়তা না থাকায় এখনো কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছেনা কি হতে চলেছে ৬ জানুয়ারী। সূত্র- বিবিসি

