‘অজ্ঞাতনামা’ শুধু কি সিনেমা নাকি ‘গলাকাটা পাসপোর্টের’ বাস্তবতা!

‘অজ্ঞাতনামা’ শুধু কি সিনেমা নাকি ‘গলাকাটা পাসপোর্টের’ বাস্তবতা!

মোশাররফ রাসেল | উত্তরদক্ষিণ |
বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৭:১৬

তৌকির আহমেদ পরিচালিত ‘অজ্ঞাতনামা’ মুভি গল্পের মতো গলাটাকাটা পাসপোর্টের বিষয়ে প্রবাস জীবনের একটি অভিজ্ঞতা বলা যাক, প্রবাস জীবনে অনেক মানুষকে দেখেছি যারা বাংলাদেশী, বাংলাদেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন। দেশের কোন জেলা উপজেলা সব কথা বলার পর তাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘আমি ইন্ডিয়ান’। একজন বাংলাভাষী অথবা হিন্দিভাষী হলেও একজন ইন্ডিয়ানের আমাদের প্রতি আগ্রহ থাকতেই পারে। কিন্তু তবুও নিজের দেশের মানুষের আচার আচরণ দেখলে কিছুটা হলেও চেনা যায়। অনেকেই ভাবতে পারেন ভারতের সাথে আমাদের অনেক সীমান্তবর্তী এলাকার ভাষা মিল আছে। কিন্তু সীমান্তবর্তী ছাড়াও অনেক অন্যান্য ভাষার মানুষদেরও দেখেছি ইন্ডিয়ান পরিচয় দিতে।

কয়েক দফা বাংলাদেশীরা জাল পাসপোর্ট নিয়ে সে দেশী দালালচক্র সমেত ধরাও পড়েছে। এই পাসপোর্টের জাল কাগজ বানাতেও আবার সেই গলাকাটা পেপারস লাগে। মানে তাদের আদারকার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্রের মত কাগজে অন্যের ছবিতে নিজের ছবি লাগিয়ে বানিয়ে দেয় দালালরা। এবং এই জাল পাসপোর্ট বানানো দেশীয় মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। যদিও সঠিক পরিসংখ্যান নেই। বলা বাহুল্য বেশির ভাগ মানুষই নিজের নাম, ধর্মও পরিবর্তন করে ফেলতে হয় এসব চক্করে পড়ে। মন থেকে না হলেও নামে তো অন্তত ধর্ম পরিচয় মুছে ফেলতে হয়।

২০১৫ সালে ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য মুম্বাইতে গিয়েছিলাম। সেখানে নিজেরই এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিলো। এক দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের সাহায্য নিতে হয়েছিলো যিনি আবার অনেক আগেই নিজের তিন ভাই, স্ত্রীসহ সেখানের পাসপোর্ট বানিয়ে এখন পুরোপুরি ভারতীয় বনে গিয়েছেন। আমাকেও প্রস্তাব দিয়েছিলেন পাসপোর্ট বানানোর। তবে চিকিৎসার কাজে ব্যস্ততার কারণে সেদিকে নজর দিই নি আমরা। তবুও এখনো মনে হলে ভাবি কি হতো যদি কাজটা হতো? কেমন অনুভূতি হতো দেশী হয়েও পরদেশী হওয়ার স্বাদ।

সবচেয়ে খারাপ লাগে এই মানুষগুলোর ভাগ্য চিন্তা করলে। কোনোভাবে এই মানুষগুলো মারা গেলে কি হয় এদের ভাগ্যে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে। শুধুই একটু ভালো থাকার আশায় এভাবে নিজের পরিচয় মুছে দেয় মানুষ। ভালো থাকার কত আশা। কিন্তু তাদের বুক ভরে দেশের নাম বলতে না পারার কি আফসোস হয় কিনা আমার জানতে ইচ্ছে করে। আমার জানতে ইচ্ছে করে কেমন লাগে মনে মনে বাংলাদেশী বলতে চেয়েও কাউকে বলতে না পারার কষ্ট।

২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে অন্তত তিনবার এরকম চক্র পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়ার খবর পাওয়া যায়। মন থেকে আমার প্রত্যাশা অজ্ঞাতনামার মত এমন নাম একজনের শরীর অন্যজনের অথবা একদেশের হয়ে অন্যদেশের নাম ধারণ করে যেন চলতে না হয়, যেন বুক ভরে নিজের দেশের নাম, নিজে জন্ম পরিচয় দিতে পারি সেই প্রত্যাশা করি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading