করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া জরুরী

করোনার মধ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপ: সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া জরুরী

সম্পাদকীয় | উত্তরদক্ষিণ
মুদ্রিত সংস্করণ: বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০০:০১

করোনা মহামারির মধ্যেই মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে ডেঙ্গু। দিনদিন এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। প্রাণঘাতী এ দু’টি রোগের উপসর্গ প্রায় একই হওয়ায় রোগ নির্ণয় বা পরীক্ষায় করোনাই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। ফলে নীরব ঘাতকে পরিণত হচ্ছে ডেঙ্গু। এ অবস্থায় সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির করোনা নেগেটিভ আসলে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুকেও গুরুত্ব দিতে হবে। তা না হলে ডেঙ্গু সংক্রমণ আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।

দেশে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ২২ ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রয়েছেন ১৯ জন। বাকি তিনজন অন্য বিভাগে ভর্তি আছেন। এছাড়া নতুন করে দুজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের সবাই ঢাকায় ভর্তি হয়েছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৮৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৫৭ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে এখন পর্যন্ত ৯টি মৃত্যুর তথ্য প্রেরিত হয়েছে। আইইডিসিআর চারটি ঘটনার পর্যালোচনা সমাপ্ত করে তিনটি মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করেছে। গত বছর দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় এবং সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে মশাবাহিত এ রোগে তখন ১৭৯ জন মারা যান।

করোনার ২য় ঢেউ নিয়ে দেশজুড়ে সতর্ক বার্তা বা কড়া পদক্ষেপ নেয়া হলেও দৃশ্যত ডেঙ্গু নিয়ে মানুষ এখন আর অতটা সচেতন নয়। গতবছরের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা দেখেছে দেশ, এবার সবাই করোনায় কোণঠাঁসা হয়ে আছে। এদিকে চিকিৎসকরা বলছেন, দু’টি রোগেরই প্রাথমিক উপসর্গ প্রায় একই। টানা তিনদিন জ্বর, মাথাব্যথা, গা ব্যথা ও হাত-পায়ে ব্যথা—রোগ দু’টির অন্যতম লক্ষণ। ফলে কে ডেঙ্গু আক্রান্ত, আর কে করোনায় আক্রান্ত তা বুঝে ওঠাই এখন প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ। যে কারণে রোগ দু’টি নির্ণয়ের জন্য আলাদা-আলাদা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু দেশে এসব উপসর্গের রোগীরা প্রধানত করোনা পরীক্ষাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফলে এর আড়ালে ডেঙ্গু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যেহেতু ডেঙ্গু ও করোনার উপসর্গ প্রায় কাছাকাছি তাই করোনা নেগেটিভ আসলে সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গুর টেস্টও করা উচিত। আর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারিতে রাখতে হবে। যাতে ডেঙ্গু রোগীকে কামড় দেওয়া মশাটি অন্য কাউকে কামড়াতে না পারে।

ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার কারণে। ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশা কোনো ব্যক্তিকে কামড়ালে সেই ব্যক্তি চার থেকে ছয় দিনের মধ্যে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এবার এ আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো জীবাণুবিহীন এডিস মশা কামড়ালে সেই মশাটিও ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণুবাহী মশায় পরিণত হয়। এভাবে একজন থেকে অন্যজনে মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়িয়ে থাকে।

ডেঙ্গুতে সাধারণত তীব্র জ্বর এবং সেই সাথে শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। জ্বর ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়। শরীরে বিশেষ করে হাড়, কোমর, পিঠসহ অস্থিসন্ধি ও মাংসপেশিতে তীব্র ব্যথা হয়। এ ছাড়া মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা হয়। গায়ে রেশ হতে পারে। এর সাথে বমি বমি ভাব হতে পারে।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হল এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে, তার ব্যবস্থা করা। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল, জলাশয় ইত্যাদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যেহেতু এডিস মশা মূলত এমন বস্তুর মধ্যে ডিম পাড়ে যেখানে স্বচ্ছ পানি জমে থাকে, তাই ফুলদানি, ডাবের খোসা, পরিত্যক্ত টায়ার ইত্যাদি সরিয়ে ফেলতে হবে। ব্যবহৃত জিনিস যেমন মুখ খোলা পানির ট্যাংক, ফুলের টব ইত্যাদিতে যেন পানি জমে না থাকে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।

এডিস মশা সাধারণত সকাল ও সন্ধ্যায় কামড়ায়। তবে অন্য সময়ও কামড়াতে পারে। তাই দিনে ঘরের চারদিকে দরজা জানালায় নেট লাগাতে হবে। দিনে ঘুমালে মশারি টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading