এবার প্রতিরক্ষা বিলেও ভেটো দিলেন ট্রাম্প
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ১৩:২৬
সামরিক বাজেট বিলের পরে এবার প্রতিরক্ষা বিলেও ভেটো দিলেন বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ মাসেই ৭৪০ বিলিয়ন ডলারের এই বিল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছে কংগ্রেসে। ট্রাম্প বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) বলেছেন, এই বিলটি আসলে রাশিয়া ও চীনের জন্য একটি উপহার। এটি আইনে পরিণত হলে তা শুধু অন্যায়ই হবে না, বরং এটি হবে অসাংবিধানিক। যদিও সংবিধানের আলোকে নিজের এমন দাবির কোনও ব্যাখ্যা দেননি তিনি। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
আগামী ২০ জানুয়ারি হোয়াইট হাউস ছাড়তে হবে ট্রাম্পকে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তার আগে একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিচ্ছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ শিবিরের বক্তব্য, সামরিক বিলে ভেটো না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতারা। কারণ, বিলটি কংগ্রেসে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাস হয়েছিল।
নিয়ম হলো, কংগ্রেসে বিল পাস হওয়ার পরে তা প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। প্রেসিডেন্ট কোনও কারণে অনুমোদন না দিলে তা ফিরে আসে কংগ্রেসে। এরপর পার্লামেন্টের দুই কক্ষে বিলটি দুই-তৃতীয়াংশ ভোট পেলে প্রেসিডেন্টের অনুমোদন ছাড়াই তা আইন হয়ে যায়। এই বিলটির ক্ষেত্রে তেমনটাই ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির সিনেটররাও বিলটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর আগে আটটি বিলে ট্রাম্প ভেটো দিয়েছিলেন। প্রতিটিই অবশ্য শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়েছে।
যদি কোনও কারণে ট্রাম্পের ভেটো কংগ্রেস মেনে নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ৬০ বছর পরে এই প্রথম কোনও প্রতিরক্ষা বিল অনুমোদন পাবে না।
বিলটিতে আফগানিস্তান ও ইউরোপ থেকে সেনা সরানোর উপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যা ট্রাম্পের পছন্দ নয়। এ ছাড়াও বেশ কয়েকটি বিষয়ে ট্রাম্প আপত্তির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্পের সঙ্গে একমত নন রিপাবলিকান সিনেটররাও। বরং অধিকাংশই মনে করছেন, সময়ের নিরিখে বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিলে সামরিক কর্মীদের তিন শতাংশ বেতন বৃদ্ধির কথাও বলা হয়েছে।
এদিকে ট্রাম্প বুধবার আরও আটজনের শাস্তি মওকুফ করেছেন। ক্ষমা করার অধিকার প্রয়োগ করে শাস্তি মওকুফ করেছেন তিনি। থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় থেকেই ট্রাম্প একের পর এক ব্যক্তিকে ক্ষমা করছেন। বুধবার নিজের সাবেক দুই পরামর্শদাতাকে ক্ষমা করেছেন ট্রাম্প। রাশিয়া-কাণ্ডে শাস্তি হয়েছিল তাদের। নিজের মেয়ের শ্বশুরকেও ক্ষমা করেছেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঢালাও ক্ষমা ঘোষণা নিয়েও মার্কিন রাজনীতিতে বিতর্কের সূত্রপাত ঘটেছে।

