চ্যালেঞ্জের মুখে মমতা ব্যানার্জি
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ০০:০১
পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনীতি, দলবদল আগামী নির্বাচন নিয়ে উত্তরদক্ষিণের বিশেষ প্রতিবেদন
ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও আপামর জনসাধারণের ‘দিদি’ মমতা ব্যানার্জি তার রাজনৈতিক জীবনের এক কঠিন সময় পার করছেন। আগামী বছরের রাজ্য সরকার নির্বাচনে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বীতার মুখে পড়তে হচ্ছে একথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। বিশেষভাবে ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন বিজেপি জোট ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী চাপে বেশ চাপে রয়েছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতা দখলের জন্য বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে নেমেছে।
ইন্ডিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)’র এবারের টার্গেট পশ্চিমবঙ্গের মসনদ। এ ব্যাপারে রাজ্য পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের যেন ঘুম নেই। বিজেপি নেতা ও দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাসহ প্রভাবশালী বিজেপি নেতাদের পদচারণা ও কর্ম-তৎপরতায় এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি মুখরিত।
বিজেপি একদিকে রাজ্যে নিজেদের দলগত অবস্থান শক্তিশালী করছে, অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মী ভাগিয়ে নিয়ে আসছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিশ্বস্ত সহচর ও রাজ্য সরকারের মন্ত্রী ও বিধায়ক শুভেব্দু অধিকারী সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) মেদিনীপুরের সভায় শুভেন্দু অধিকারীসহ এক ঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক-সাংসদ, প্রাক্তন সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ২ বাম এবং এক কংগ্রেস বিধায়কও মেদিনীপুরের মঞ্চ থেকেই ধরেছেন গেরুয়া পতাকা। কিন্তু সবার নজর ছিল শুভেন্দু অধিকারীকে ঘিরে। শুভেন্দু ছিলেন মমতার গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সহকর্মী যাকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী ভাবা হত।
দু’দিনের রাজ্য সফর শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে (২০ ডিসেম্বর)একাধিক ইস্যুতে রাজ্য সরকার ও শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেন অমিত শাহ। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, শিল্প, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মাথাপিছু আয়— সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।
রাজ্যের ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলকে তোলাবাজ, পরিবারবাদী, দুর্নীতির সরকার আখ্যা দিয়ে বিজেপি প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি ও দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতের দাবি, রাজ্যের মানুষই তৃণমূল সরকারকে সরিয়ে বিজেপিকে ক্ষমতায় বসাবে।
মমতাকে নিশানা করে অমিত শাহের কটাক্ষ, ‘‘দিদি, আপনি চিন্তা করবেন না। এ রাজ্যের মানুষই আপনার সরকারকে ত্যাগ করবে। আপনার সরকার আর থাকবে না। স্পষ্ট করে অমিত শাহ বলেন, ‘বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন বাংলার ভূমিপুত্রই’।
শুভেন্দুসহ নেতাকর্মীদের এই দলবদলের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থেই মমতা ব্যানার্জি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তৃণমূল ছেড়ে আরও অনেক নেতা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে খবর ভেসে বেড়াচ্ছে। সেক্ষেত্রে মমতা’র সামনের দিনগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে সেকথা নির্দ্বধায় বলা যায়।
তবে লড়াকু মমতা ব্যানার্জিকে অতো সহজে পরাজিত করা সম্ভব না, সেই বিষয়টি বিজেপিসহ মমতা-বিরোধীরা সবাই জানে। কারন তিনি-ই পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মহিলা মুখ্যমন্ত্রী। তাকে অগ্নিকন্যাও বলা হয়। ২০১১ সালে তার নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গের ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারকে পরাজিত করে মসনদে বসেছিল। তার সেই রাজত্ব আজও বহাল রয়েছে। তবে আগামী নির্বাচন ও দল-বদলের এই খেলায় কে হারবে বা কে জিতবে সেকথা বলার সময় এখনও হয়নি।
সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার পত্রিকা, উইকিপিডিয়া।

