মহামারীর বছরে যেসব বিশিষ্টজনদের হারিয়েছে বাংলাদেশ
উত্তরদক্ষিণ | বৃহস্পতিবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০ | আপডেট: ২১:১০
বছরটি ছিল মহামারীর, ফলে মৃত্যুর মিছিলও ছিল দীর্ঘ। ২০২০ সালে রাজনীতি, চলচ্চিত্র, শিক্ষা, সাহিত্য, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেককে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিটি মৃত্যুই অপ্রত্যাশিত, তবে বিদায়ী বছরে অপ্রত্যাশিত এই ঘটনা ছিল অনেক বেশি।
ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি- বছরের দ্বিতীয় দিনেই রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রথম শোকের খবর আসে সাবেক সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসার বাপ্পির আকস্মিক মৃত্যুতে। নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার চার দিন পর ২ জানুয়ারি তার মৃত্যু ঘটে। পরে নমুনা পরীক্ষায় তার সোয়াইন ফ্লু সংক্রমণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পেশায় আইনজীবী বাপ্পির বয়স হয়েছিল ৪৯ বছর। যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের পর নবম ও দশম সংসদে সংরক্ষিত আসনের সদস্য ছিলেন তিনি।
আবদুল মান্নান- সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান ৬৬ বছর বয়সে ১৮ জানুয়ারি চিরবিদায় নেন। ছাত্রলীগের সাবেক এই সভাপতি এক সময় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। বগুড়ার বাসিন্দা মান্নান গত শতকের ৮০ দশকে ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (বাকসু) ভিপি ছিলেন তিনি।
ইসমাত আরা সাদেক- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর সামলানো ইসমাত আরা সাদেক ২১ জানুয়ারি পৃথিবী ছেড়ে যান। যশোর-৬ আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। ওই আসনে এক সময় তার স্বামী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএইচএসকে সাদেক সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল ইসমাত আরাকে। পরে তাকে করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী।
রহমত আলী- প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট রহমত আলী ৭৫ বছর বয়সে ১৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য রহমত আলী গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর-ভাওয়ালগড়-পিরুজালী-মির্জাপুর) আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০১ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। তার মেয়ে রুমানা আলী টুসী একাদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি।
বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর- গত শতকের ৫০ দশক থেকে যারা সৃজনশীলতা দিয়ে বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে উজ্জ্বল হয়ে বিরাজ করছিলেন, তাদের একজন বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর ২৩ মার্চ চিরবিদায় নেন। ৮৪ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, শিল্প সমালোচনা, সাহিত্য সম্পাদনার ক্ষেত্রে ছিলেন অনন্য।
শামসুর রহমান শরীফ ডিলু- প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ৮৪ বছর বয়সে ২ এপ্রিল মারা যান। তিনি বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডিলু ওই এলাকা থেকে পাঁচ বার নির্বাচিত হন। আমৃত্যু পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তিনি। একাত্তরে ৭ নম্বর সেক্টর থেকে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।
রাখী দাশ পুরকায়স্থ- দেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী, মুক্তিযোদ্ধা রাখী দাশ পুরকায়স্থ ৬৮ বছর বয়সে ৬ এপ্রিল চিরবিদায় নেন। লিভারের চিকিৎসা নিতে ভারতের আসামে গিয়েছিলেন তিনি, সেখানেই তার মৃত্যু হয়। ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী রাখী দাশ ঢাকার ইডেন কলেজের ছাত্র সংসদে পরপর তিনবার ভিপি নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী শামসুন্নাহার হল ছাত্র সংসদেরও ভিপি ছিলেন।
বশিরুল হক- ছায়ানট ভবন ও আশার প্রধান কার্যালয়সহ শতাধিক ভবনের স্থপতি বশিরুল হক ৭৭ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৪ এপ্রিল মারা যান। বশিরুল হক গত বছর ‘হামিদুর রাহমান পুরস্কার’ পান। এর আগে আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচারের জন্য ১৯৮০, ১৯৯২ ও ২০০১ সালে মনোনীত হন তিনি। বশিরুল হকের স্থাপত্যশৈলীতে সাংস্কৃতিক উপাদান, স্থানীয় বিষয়বস্তু, শহুরে টেকসই নির্মাণ এবং প্রাকৃতিক আলো ও বাতাসের ব্যবহার লক্ষণীয়।তার নকশাকৃত ভবনে হস্তনির্মিত ইট, কংক্রিট, ও প্রাকৃতিক কাঠের মতো উপাদানের ব্যবহার দেখা যায়।
সুফিয়া আহমেদ- ভাষাসৈনিক ও দেশের প্রথম নারী জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ ৮৭ বছর বয়সে ১০ এপ্রিল মারা যান। তিনি বার্ধ্যক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ১৪৪ ধারা ভেঙে যে মিছিল বের হয়, তার অগ্রসেনানী ছিলেন এই নারী। ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য ২০০২ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিচারপতি মুহাম্মদ ইব্রাহিমের মেয়ে সুফিয়া আহমেদ। তার স্বামী ছিলেন দেশের খ্যাতিমান আইনজীবী, তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ।
সা’দত হুসাইন- মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান সা’দত হুসাইন ৭৩ বছর বয়সে ২২ এপ্রিল মারা যান। তিনি কিডনির জটিলতাসহ নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। দক্ষ আমলা হিসেবে পরিচিত সা’দত হুসাইন পাকিস্তান আমলে ১৯৭০ সালে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তানে (সিএসপি) যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রবাসী সরকারে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদের সচিব ছিলেন। ২০০৭ থেকে পাঁচ বছর তিনি পিএসসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন।
রোজিনা আক্তার- বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নারী ক্যামেরাপারসন রোজিনা আক্তার ২৪ এপ্রিল মারা যান। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনের জ্যেষ্ঠ ক্যামেরাপারসন পদে কর্মরত ছিলেন। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় জটিলতা দেখা দিলে তার জেরে রোজিনার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগের মাসে একটি সন্তান হয়েছিল তার, ওই নবজাতক বাঁচেনি: তখন থেকে তিনিও অসুস্থ ছিলেন।
জামিলুর রেজা চৌধুরী- বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে যেসব বড় বড় ভৌত অবকাঠামো হয়েছে, তার প্রায় সবগুলোতেই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী ২৮ এপ্রিল চিরবিদায় নেন। ৭৭ বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে তার মৃত্যু হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করা জামিলুর রেজা চৌধুরী ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন।
হাবিবুর রহমান মোল্লা- ঢাকা-৫ (ডেমরা-দনিয়া-মাতুয়াইল) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লা ৭৮ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ৬ মে মারা যান। ডেমরা এলাকায় দীর্ঘদিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন হাবিবুর রহমান মোল্লা। আওয়ামী লীগ করলেও ১৯৯১ সালে প্রথমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হন। এরপর ২০০৮ থেকে তিন বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।
আনিসুজ্জামান- কোভিড-১৯ মহামারীতে যখন ধুঁকছে জাতি, সেই সময় ১৪ মে চিরবিদায় নেন দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের ‘বাতিঘর’ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ৮৩ বছর বয়সী এই অধ্যাপক বার্ধক্যজনিক জটিলতায় ভুগছিলেন, এর মধ্যে তারও করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও একুশে পদকে ভূষিত ছিলেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ভারত সরকারের পদ্মভূষণ খেতাবও পান তিনি।
আজাদ রহমান- আজাদ রহমানের সুর সাধনা থেমে যায় ১৬ মে; ৭৬ বছর বয়সে। হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পীর। বাংলাদেশে খেয়াল জনপ্রিয় করার পেছনে আজাদ রহমানের অবদান সবচেয়ে বেশি। তিনি বেশ কিছু দিন নজরুল ইনস্টিটিউটেও পড়িয়েছেন। ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মা গো’র মতো কালজয়ী দেশাত্মবোধক গানে সুরটি আজাদ রহমানই বেঁধেছেন। চলচ্চিত্রে অনেক গানের সুরস্রষ্টা হিসেবে তিনি ছিলেন জনপ্রিয়ও। ‘ভালোবাসার মূল্য কত’, ‘ও চোখে চোখ পড়েছে যখনই’, ‘মনেরও রঙে রাঙাব’, ‘ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়’সহ অনেক গানে সুর দিয়েছেন তিনি।
হাসান ইমাম- নৃত্যশিল্পী, নৃত্যপরিচালক হাসান ইমাম ৬৭ বছর বয়সে ১৬ মে মারা যান। পরিবার জানায়, হৃদরোগে তার মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসে বোনের মৃত্যুর তিন দিন পর তার মৃত্যু ঘটে। দেশের নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে অগ্রগন্য হাসান ইমাম টেলিভিশন নৃত্যশিল্পী সংস্থার সাবেক সভাপতি; সুরঙ্গমা একাডেমি নামে একটা নাচের স্কুল পরিচালনা করতেন। বিক্রমপুরে জন্ম নেওয়া হাসান ইমামের শৈশব-কৈশোর কেটেছে মগবাজারে; স্বাধীনতার পরপর বুলবুল ললিতকলা একাডেমি থেকে নৃত্যের উপর পড়াশোনা সম্পন্ন করে পেশাদার নৃত্যশিল্পী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়েন। আশি ও নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় এ নৃত্যশিল্পী পল্লীকবি জসীম উদ্দীনের ‘নকশী কাঁথার মাঠ’ নৃত্য-নাটকে কাজ করে প্রশংসিত হয়েছেন; তার বিপরীতে ছিলেন নৃত্যশিল্পী জিনাত বরকতউল্লাহ।
মজিবর রহমান দেবদাস- পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর নিপীড়নের প্রতিবাদে যিনি জানিয়েছিলেন নাম বদলে, নিভৃতচারী সেই মজিবর রহমান দেবদাস ১৮ মে পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নেন। ৯২ বছর বয়সে জয়পুরহাটের ভাদসা ইউনিয়নের মহুরুল গ্রামে নিজের বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু ঘটে।
মকবুল হোসেন- করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৪ মে মারা যান আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ঢাকার সাবেক সংসদ সদস্য হাজি মকবুল হোসেন। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ধানমণ্ডি-মোহাম্মদপুর আসনের সংসদ সদস্য মকবুল আওয়ামী লীগের বর্তমান কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদে সদস্য ছিলেন। করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যেই মুন্সীগঞ্জসহ বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ বিতরণ করে যাচ্ছিলেন মকবুল। এরমধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরীক্ষা করে তার কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়ে।
শমরিতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মালিক মকবুল হোসেন সন্ধানী লাইফ ইন্সুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্সুরেন্স কোম্পানিরও মালিক। ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা মকবুল মোহাম্মদপুরে নিজের নামে একটি কলেজসহ আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এছাড়া তার মালিকানায় রয়েছে এ্যমিকো ল্যাবরেটরিজ, পান্না টেক্সটাইল, মোনা ফিন্যান্স ইত্যাদি।
নিলুফার মঞ্জুর- প্রায় সাড়ে চার দশক অগণিত শিক্ষার্থীকে জীবন পথের দিশা দেখিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৬ মে ঢাকার সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নিলুফার মঞ্জুর মারা যান। বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়ী ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর স্ত্রী নিলুফার ১৯৭৪ সালের ১৫ জানুয়ারি ঢাকার সানবিমস স্কুলের প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখন দেশের অন্যতম সেরা ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত।
আবদুল মোনেম- বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামো তৈরিতে যে প্রতিষ্ঠানটির নাম জড়িয়ে, সেই মোনেম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মোনেম ৩১ মে মারা যান। ৮৬ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ীর ব্রেইন স্ট্রোক হয়েছিল। বাংলাদেশে ছোট থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী ব্যক্তির ক্ষেত্রে মোনেম বড় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত। নির্মাণ খাতের ব্যবসার সাফল্য তাকে বড় উচ্চতায় নিয়ে যায়।
এন আই খান- ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলাম খান বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে ৬ জুন মারা যান। এই মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এন আই খান নামেই পরিচিত ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সিটি ডেন্টাল কলেজের অধ্যক্ষ ও মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মোহাম্মদ নাসিম- সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর ব্রেইন স্ট্রোকে ১৩ জুন চিরতরে বিদায় নেন। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনে যুক্ত হয়ে রাজনীতিতে পা রাখেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর কারাগারে মনসুর আলী হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন তিনি।
শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ- ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো. আবদুল্লাহ ১৩ জুন হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। আওয়ামী লীগের সাবেক ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার আসনে তার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন শেখ আব্দুল্লাহ।
সাইফুল আজম- যুদ্ধক্ষেত্রে বৈমানিক হিসেবে বীরত্বপূর্ণ অবদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বিমানবাহিনী কর্তৃক ‘লিভিং ঈগল’ স্বীকৃতিধারী সাইফুল আজম ৮০ বছর বয়সে ১৪ জুন মারা যান। ১৯৬৭ সালের তৃতীয় আরব-ইসরায়েলি ছয় দিনের যুদ্ধে তিনি চারটি ইসরায়েলি বিমান ভূপাতিত করে বিশ্বরেকর্ড গড়েন। নিজ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লড়তে না পারলেও স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বিমানবাহিনীতে কাজ করেন তিনি।
বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান- সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম মেয়র ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুন মারা যান। ২০০২ সালে সিলেট পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর ২০০৩ সালে প্রথম নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন কামরান।
কামাল লোহানী- একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীন বাংলা বেতারে যার কণ্ঠে বাংলাদেশের যুদ্ধ জয়ের খবর প্রথম এসেছিল, সেই কামাল লোহানীর কণ্ঠ গত ২০ জুন করোনাভাইরাসে স্তব্ধ হয়ে যায়। কামাল লোহানী একাধারে ছিলেন সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সংগঠক, রাজনৈতিক সংগ্রামের পরামর্শক।
খোন্দকার মোজাম্মেল হক- এইচ এম এরশাদের সামরিক শাসনামলে ‘গেদু চাচার খোলা চিঠি’ কলাম লিখে জনপ্রিয় সাংবাদিক খোন্দকার মোজাম্মেল হক ২৯ জুন মারা যান। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়েই প্রবীণ এই সাংবাদিকের মৃত্যু হয়। গত শতকের ৮০ এর দশকে সুগন্ধা নামে একটি সাপ্তহিক প্রকাশিত হত খোন্দকার মোজাম্মেলের সম্পাদনায়। সেখানে ‘গেদু চাচার খোলা চিঠি’ নামে একটি কলাম লিখতেন তিনি, যাতে সরস কথায় সামরিক শাসনের সমালোচনা করা হত। ওই সময় ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল গেদু চাচার খোলা চিঠি।
লতিফুর রহমান- দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পোদ্যোক্তা ও ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান ৭৫ বছর বয়সে ১ জুলাই মারা যান। ব্যবসায় সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক মান রক্ষার জন্য ২০১২ সালে অসলো বিজনেস ফর পিস অ্যাওয়ার্ড পান তিনি।
এন্ড্রু কিশোর- কয়েক দশক ধরে দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে গানের জগতে আধিপত্য করে আসা এন্ডু কিশোরের জীবনের গল্প থেকে যায় ৬ জুলাই; ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে ৬৪ বছর বয়সেই পৃথিবীকে বিদায় জানাতে হয় তাকে।
সাহারা খাতুন- দেশের প্রথম নারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই করে নেওয়া সাহারা খাতুন ৯ জুলাই ৭৭ বছর বয়সে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তৃণমূল থেকে লড়াই করে রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসা সাহারা খাতুন আইন পেশায় থেকেই আওয়ামী লীগে সক্রিয় ছিলেন। বিয়ে-সংসারের প্রথাগত পথে না গিয়ে তিনি নব্বইয়ের এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ আন্দোলন-সংগ্রাম ও দলের দুর্দিনে আজীবন মাঠে ছিলেন সক্রিয়।
নুরুল ইসলাম বাবুল- দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল ১৩ জুলাই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। ১৯৪৬ সালে জন্ম নেওয়া নুরুল ইসলাম বাবুল ১৯৭৪ সালে যমুনা গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। একে একে শিল্প ও সেবা খাতে গড়ে তোলেন তিন ডজন কোম্পানি।
শাহজাহান সিরাজ- মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা পর্বের সাক্ষী শাহজাহান সিরাজ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৭ বছর বয়সে ১৪ জুলাই মারা যান। ছাত্রলীগ, জাসদ ও পরে বিএনপির নেতা হয়ে শাহজাহান সিরাজ মন্ত্রী হলেও একাত্তর সালে উত্তাল মার্চে ছাত্র সমাজের পক্ষে স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠকারী হিসেবে বাংলাদেশের ইতিহাসে নাম লেখা থাকবে তার।
এমাজউদ্দীন আহমদ- রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ ৮৮ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ১৭ জুলাই মারা যান। ১৯৯২-৯৬ সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন সর্বশেষ ইউনির্ভাসিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভের (ইউডা) উপাচার্য ছিলেন।
ইসরাফিল আলম- করোনাভাইরাস সংক্রমণ মুক্ত হওয়ার পর ফুসফুসের জটিলতা নিয়ে ২৭ জুলাই মারা যান নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম। তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে মিটার রিডার হিসেবে চাকরি করতেন ইসরাফিল আলম। সেখানেই তিতাস কর্মচারী ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের মাধ্যমে তার রাজনীতির শুরু। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে অটোটেম্পো চালক শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে তিনি তিতাস গ্যাস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঘাট শ্রমিক লীগের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। ঢাকা মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন তিনি।
আলাউদ্দিন আলী- ঢাকাই চলচ্চিত্রের বহু হৃদয়কাড়া গানের গীতিকার, সুরকার, সঙ্গীত পরিচালক আলাউদ্দিন আলী সুরের ভুবন ছেড়ে চলে যান ৯ অগাস্ট। ৬৮ বছর বয়সী এই সুরস্রষ্টা ক্যান্সারের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় ভুগছিলেন।
মুর্তজা বশীর- বাংলাদেশের শিল্পকলার অন্যতম নক্ষত্র হিসেবে বিবেচিত মুর্তজা বশীর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ আগস্ট চিরবিদায় নেন। বাংলার জ্ঞানতাপস ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ছোট সন্তান মুর্তজা বশীরের জন্ম ১৯৩২ সালের ১৭ অগাস্ট। বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে, প্রতিবাদে মুর্তজা বশীর ছিলেন অগ্রভাগে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশের শিল্পকলা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ছিলেন তিনি।
সি আর দত্ত- মুক্তিযুদ্ধকালীন ৪ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল চিত্তরঞ্জন দত্ত ৯৩ বছর বয়সে ২৫ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে মারা যান। তিনি বাসায় পড়েগিয়ে ব্যথা পেয়েছিলেন, পরে অস্ত্রোপচার করলেও আর জীবনে ফিরতে পারেননি। বীর উত্তম সি আর দত্ত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। সেক্টর কমান্ডারস ফোরামেরও নেতা ছিলেন তিনি।
রাহাত খান- প্রবীণ সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক রাহাত খান ৮০ বছর বয়সে ২৮ অগাস্ট মারা যান। তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যায় ভুগছিলেন। দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করা রাহাত খান সর্বশেষ দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আবু ওসমান চৌধুরী- স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর সেনানী আবু ওসমান চৌধুরী ৮০ বছর বয়সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৫ সেপ্টেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। মুক্তিযুদ্ধকালীন ৮ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন আবু ওসমান চৌধুরী; তার স্ত্রী নাজিয়া খানম রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারকে খাবার ও পানীয়, টাকাপয়সা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজনে ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করা, অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ পাহারা দেওয়ার মতো কাজ করেন সাহসিকতার সঙ্গে।
জিয়াউদ্দিন তারেক আলী- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি এবং সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি জিয়াউদ্দিন তারেক আলী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। একাত্তরের যে গানের দল বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল, সেই দলের সদস্য ছিলেন তারিক আলী। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর গড়ে উঠেছে, তিনি তাদেই একজন।
সাদেক বাচ্চু- অভিনেতা সাদেক বাচ্চু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ৬৬ বছর বয়সে ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। ডাকবিভাগের সাবেক কর্মকর্তা সাদেক হোসেন বাচ্চু টেলিভিশনে অভিনয় করে নাম কুড়িয়ে ১৯৮৫ সাল চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন। ‘রামের সুমতি’র মাধ্যমে যাত্রা শুরুর পর বহু জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। খল চরিত্রের অভিনেতা হিসেবে দর্শকদের কাছে পেয়েছেন আলাদা পরিচিতি।
শাহ আহমদ শফী- হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা, চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ‘বড় মাদ্রাসা’ হিসেবে পরিচিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী শত বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে ১৮ সেপ্টেম্বর মারা যান। দেশে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার ভিত মজবুত করতে তার ভূমিকা এবং দেওবন্দের অনুসারী আলেমদের কাছে আহমদ শফী ছিলেন অত্যন্ত শ্রদ্ধার পাত্র, তাকে ডাকা হত ‘বড় হুজুর’ বলে।
নওশেরুজ্জামান- স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় নওশেরুজ্জামান ৭০ বছর বয়সে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর জীবনের মাঠ থেকে বিদায় নেন। ৭০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্লু খেতাব পাওয়া এই খেলোয়াড়।
মাহবুবে আলম- বাংলাদেশের সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ৭১ বছর বয়সে গত ২৭ সেপ্টেম্বর মারা যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সংক্রমণমুক্ত হলেও সুস্থ হয়ে আর ফিরতে পারেননি তিনি। মাহবুবে আলম ২০০৯ সালে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে নিয়োগ পান। তারপর মৃত্যু অবধি ওই পদে ছিলেন। পদাধিকার বলে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।
রশীদ হায়দার- কথাশিল্পী ও নজরুল ইন্সটিটিউটের সাবেক নির্বাহী পরিচালক রশীদ হায়দার ৭৯ বছর বয়সে গত ১৩ অক্টোবর মারা যান। বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। রশীদ হায়দারের জন্ম পাবনার দোহারপাড়ায়। ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তখনকার জনপ্রিয় সিনে ম্যাগাজিন চিত্রালীতে কাজ শুরু করেন রশীদ হায়দার। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বাংলা একাডেমিতে চাকরি নেন। ১৯৯৯ সালে বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে তিনি অবসরে যান। পরে নজরুল ইন্সটিটিউটের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

