পরমাণু চুক্তি লঙ্ঘন করে ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু
উত্তরদক্ষিণ | মঙ্গলবার, ০৫ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ১০:২০
ইরান ২০ শতাংশ পর্যন্ত বিশুব্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ শুরু করেছে। যা ২০১৫ সালে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তির সবচেয়ে বড় লঙ্ঘন।
এক বিবৃতিতে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি রাবিই বলেন, কোয়াম নগরীতে পাহাড়ের গভীরে মাটির নিচে ফর্দো পরমাণু স্থাপনায় এরই মধ্যে সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) আইআরএনএ সংবাদ সংস্থাকে তিনি বলেন, ‘‘কয়েক ঘণ্টা আগে ফর্দো পরমাণু প্ল্যান্টে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ শুরু হয়েছে।”
ইরান তাদের এই পরিকল্পনার কথা এর আগে জাতিসংঘের পরমাণু অস্ত্র বিষয়ক নজরদারি সংস্থা আইএইএ এর কাছে একটি চিঠিতেও জানিয়েছিল।
ওই চিঠি হাতে পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক আনবিক শক্তি সংস্থা ‘আইএইএ’ এক বিবৃতিতে ইরানের পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করে।
বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ইরান সরকার থেকে বিষয়টি স্বীকার করে নেওয়া হল।
বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম পরমাণু জ্বালানি তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। আবার এটি দিয়ে পরমাণু বোমাও বানানো হয়। বোমা বানাতে ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রয়োজন পড়ে।
ইরান এরই মধ্যে ইউরেনিয়াম ৪ শতাংশের বেশি সমৃদ্ধ করেছে। এবার সেই ইউরেনিয়াম আরও ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে ফর্দো প্ল্যান্টের ছয়টি সেন্ট্রিফিউজে তা ঢালা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে এক বিবৃতিতে।
ইরান এখনও দাবি করে, তারা শান্তিপূর্ণ কারণেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে।
২০১৫ সালে ছয় বিশ্ব শক্তির সঙ্গে পরমাণু চুক্তির অংশ হিসেবে ২০১৯ সালে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সর্বোচ্চ মাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু তখন থেকেই ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৪ শতাংশের বেশি ছিল।
গত বছর নভেম্বরে ইরানের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মহসেন ফাখরিজাদেহকে চোরাগুপ্তা হামলার শিকার হয়ে মারা যাওয়ার পর গতমাসে দেশটির পার্লামেন্টে একটি আইন পাস হয়। যেখানে বিশুদ্ধ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ২০ শতাংশে উন্নীত করা শুরু করতে বলা হয়েছে।
সেখানে বলা হয়, যদি আগামী দুই মাসের মধ্যে ইরানের তেল রপ্তানির উপর এবং দেশটির অর্থনীতির উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা না হয় তবে ইরান সরকার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়াবে।

