ইতিহাসে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই সংগঠনের জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন: শেখ হাসিনা
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২১ | আপডেট: ২১:৪৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র বঙ্গবন্ধুই সংগঠনের জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন। মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে সংগঠন গড়ে তোলার জন্য কাজ করেন। তিনি দেশকে ভালোবেসেছেন। দেশের মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে দেয়া এক ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রবিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সীমিত পরিসরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
করোনাভাইরাসের জন্য স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী করতে পারছেন না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের সেবা করে সে সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবো। ৪৬ হাজার মানুষকে ঘর উপহার দিবো। আলোকিত করবো। সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করবো।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ‘৫৭ সালে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন সংগঠনের জন্য। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই একজনই আছেন যিনি মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছেন সংগঠনের জন্য। বারবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় গেছেন। সেখানেই তাকে মামলা দেয়া হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে।’
‘১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর আইয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করেন। ১১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধুকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু সরকারি হিসেবে তাকে ১২ তারিখে গ্রেফতার দেখায়। তখন সবসময় আগে নিয়ে যেতো তার একদিন পর গ্রেফতার দেখাতো।’ বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে বারবার কারাবরণ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু যেখানেই গেছেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। আবার তিনি জামিন পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু মানুষের জন্য কাজ করতেন বলেই শাসকরা বারবার তাকে জেলে পাঠিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার জন্য বঙ্গবন্ধু গেরিলা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। স্বাধীন রাষ্ট্র পরিচালনার সব নির্দেশনা ছিলো জাতির জনকের ৭ মার্চের ভাষণে। মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি একটি স্বনির্ভর বাংলা গড়ে তুলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছেন। তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ক্ষুধামুক্ত হতো বাংলাদেশ। তিনি দেশকে ভালবেসেছেন। নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। গণমুখি যে পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন তা যদি করে যেতে পারতেন তবে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠতো। আজ রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে তা অনুধাবন করছি।

