চীন কিনছে আর্জেন্টিনার সয়াবিন, বিপাকে বাংলাদেশ
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ১৫:৫২
এ বছর আর্জেন্টিনা প্রায় দেড় কোটি টন সয়াবিন রফতানি করবে চীনে। ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডট কম-এর খবরে এ তথ্য জানা গেছে। আর্জেন্টিনা সয়াবিনের উৎপাদন সঙ্কট কাটিয়ে চীনের বাজার ধরতে চায়। চীনে বছরে সয়াবিনের চাহিদা রয়েছে প্রায় দুই কোটি টনের। আর তা ঘটলে অন্য কোনও দেশে সয়াবিন রফতানির সুযোগ নেই আর্জেন্টিনার।
জলবায়ুর প্রভাবে ব্রাজিলে এ বছর সয়াবিনের উৎপাদন কম হয়েছে। এদিকে এমন পরিস্থিতির কারণেই আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে সয়াবিনের দাম।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কথা বলে পণ্যটির দাম বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে ভোজ্যতেল আমদানিকারক সমিতি।
আমেরিকা সয়াবিন রফতানিতে শুল্ক বাড়িয়েছে। যার কারণে বেশি দামে সয়াবিন কিনতে আগ্রহ হারিয়েছেন চীনা আমদানিকারকরা। এ সুযোগই লুফে নিয়েছে আর্জেন্টিনাসহ দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো।
আর্জেন্টিনার কৃষিখাতের পরিচিত প্রতিষ্ঠান রোজারিও গ্রেইন এক্সচেঞ্জের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে আর্জেন্টিনা থেকে চীনের বাজারে ২০০৯-১০ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ ১ কোটি ৩৩ লাখ টন সয়াবিন রফতানি হয়েছিল। এ বছর ১ কোটি ৪০ লাখ টন সয়াবিন রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে।
অবশ্য চাহিদা বাড়ায় সয়াবিন উৎপাদনেও জোর দিয়েছে আর্জেন্টিনা। এ কারণে চলতি বছর শেষে দেশটিতে ৫ কোটি ৫৫ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)।
জানা গেছে, গত ১০ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের বাজার এখন সবচেয়ে চড়া। এক মাসের ব্যবধানে খুচরা পর্যায়ে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ। বছর ব্যবধানে এ বৃদ্ধির হার ১২ দশমিক ২০ শতাংশ।
ভোজ্যতেল আমদানি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মিল মালিকরা টনপ্রতি এক হাজার ডলারের কাছাকাছি মূল্যে সয়াবিন আমদানিতে এলসি খুলেছেন। এতে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের খরচ প্রায় ১৩০ টাকা পড়বে। এ কারণেই দাম বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বাজার মনিটরিংয়ে দেখা গেছে, গত এক মাসে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ২০ থেকে ২৫ টাকা। বোতলজাত প্রতিলিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। গতবছর একই সময়ে যা ছিল ৮০-৮৫ টাকা। আমদানিকারকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিলিটার সয়াবিন তেলের দাম দাঁড়াবে ১৩০ টাকা। সঙ্গে পরিশোধন ব্যয়, মুনাফা ও বিভিন্ন প্রকার শুল্ক যুক্ত করে খুচরা পর্যায়ে আরো ৫-১০ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করতে হবে।

