গ্র্যামি না জেতা সুপারস্টার বব মার্লে
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ | আপডেট: ০৯:৫৪
গ্র্যামিকে বলা হয় সঙ্গীত জগতের অস্কার। সঙ্গীত ক্যারিয়ারে গ্র্যামি জেতাকে ধরা হয় সাফল্যের চূড়ান্ত ধাপ হিসেবে। বর্তমানে যারা গান গেয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকেই এই পুরস্কারটি ঘরে তুলেছেন অনেকবার। বিস্ময়কর হলেও সত্য যে, এই তালিকায় নেই জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী বব মার্লে।
জ্যামাইকায় জন্ম নেওয়া এই শিল্পী দুনিয়াজোড়া খ্যাতি পেলেও জিততে পারেননি কোনো গ্র্যামি। ক্যারিয়ারে মনোনয়নও পেয়েছিলেন মাত্র ২ বার।
১৯৮১ সালে স্কিন ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার বিখ্যাত ‘ইজ দিস লাভ’ এবং ‘স্যাটিসফাই মাই সোল’ গান দুটির জন্য গ্র্যামি মনোনয়ন পেলেও জেতা হয়নি সঙ্গীতের এই শীর্ষ পুরস্কার।
১৯৬২ সাল থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত গানের সাথে যুক্ত ছিলেন মার্লে।
বব মার্লে ছিলেন তৃতীয় বিশ্ব থেকে উঠে আসে প্রথম সুপারস্টার। ৭০ এর দশকে যিনি শ্রোতা-দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন তার নান্দনিক সুরের মূর্ছনায়। একাধারে তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী। তিনি গেয়েছেন এবং তৈরি করেছেন রেগি, স্কা, রক স্টেডি সহ নানা ধরনের মৌলিক এবং মিশ্র সঙ্গীত। বব মার্লে জ্যামাইকান সঙ্গীতকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, করে তুলেছেন জনপ্রিয়। মার্লের গানে এমন কিছু ছিল, যা শ্রোতাদেরকে তাদের দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিয়ে সুরের তালে নেচে উঠতে বাধ্য করতো।
মার্লে প্রচণ্ড রকম গাঁজায় আসক্ত ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, যখন লোকজন গাঁজার ধোঁয়া টান দেয়। তখন তার মস্তিষ্ক কল্পনার রাজ্যে ভেসে বেড়ায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,
“তুমি জানো? যখন আমরা ধূমপান করি, তখন সেটা আমাদের মাথা ঠাণ্ডা করে, শান্ত হয়ে বসে ধ্যান করতে সাহায্য করে। বোকা হয়ে বসে থাকার চেয়ে ধ্যান করে অন্য কেউ হয়ে যাও। রাম (মদ) শিক্ষা দেয় মাতাল হতে আর ঔষধি তৃণলতা (তিনি গাঁজাকে ঔষধি তৃণলতা বলতেন) নিজেকে অন্য কেউ ভাবতে সাহায্য করে”।
বব মার্লে ভালোবাসতেন ফুটবল খেলতে। ইন্টারনেটে এখনও তার অসংখ্য ছবি আছে, যাতে তিনি ফুটবল খেলছেন।
১৯৭৭ সালে তার পায়ের বুড়ো আঙুলের একটা ক্ষত কিছুতেই সারছিল না, তাই তিনি ডাক্তারের পরামর্শ নিতে গেলে ধরা পড়ে- তিনি ম্যালিগন্যান্ট মেলানোমা অর্থাৎ সাধারণ ভাষায় চামড়ার ক্যান্সারে আক্রান্ত। মিয়ামির একটি হাসপাতালে ১৯৮১ সালের ১১ই মে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

