রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে: রাবাব ফাতিমা

রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান না হলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে: রাবাব ফাতিমা

উত্তরদক্ষিণ | শনিবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২১ | আপডেট : ১৮:৫৫

রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধানে আরো বেশি মনোনিবেশের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা। এছাড়া এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলে ‘মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উত্থাপিত জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদন এবং ২০২১ সালের অগ্রাধিকারসমূহের ওপর আয়োজিত ব্রিফিংয়ে বক্তব্য প্রদানকালে এই আহ্বান জানান বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। এসময় জাতিসংঘের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর কভিড-১৯ অতিমারির তীব্র চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও জাতিসংঘকে সচল রাখার জন্য মহাসচিবকে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জাতিসংঘে সভায় ফাতিমা স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশ ১.১ মিলিয়ন জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই সংকটের টেকসই সমাধানে আরো সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ মহাসচিবকে জটিল এই পরিস্থিতির প্রতি আরো বেশি মনোনিবেশের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, যদি অতি দ্রুত এই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করা না হয়, তাহলে, এই অঞ্চলে আরো অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।

প্রদত্ত বক্তব্যে করোনার টিকা নিশ্চিত করা, জরুরি জলবায়ু পরিস্থিতি মোকাবেলা, এলডিসি ক্যাটেগরি থেকে উত্তরণ, এজেন্ডা-২০৩০-এর বাস্তবায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, শান্তিরক্ষা ও রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার মতো বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রাধিকারসমূহের কথা তুলে ধরেন ফাতিমা। অতিমারির এ সংকট কাটিয়ে পুনরায় ভালো অবস্থায় ফিরে আসার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অংশীদারত্ব ও সংহতি গড়ে তোলার গুরুত্ব ও তাৎপর্যের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বিভিন্ন দেশ ও জাতিসমূহের মধ্যে আসন্ন ‘টিকা বৈষম্য’ কাটিয়ে তুলতে প্রয়োজন ন্যায়সঙ্গত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যের করোনা টিকার বিশ্বব্যাপী প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা যার নেতৃত্ব দিতে পারে জাতিসংঘ। বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আরো বলেন, টিকার উৎপাদন পর্যায়ে যেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, বিতরণের ক্ষেত্রেও একইরকম গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উদাহরণ টেনে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, ‘উত্তরণের পথে থাকা এবং উত্তরিত দেশগুলোর জন্য সময়সীমাভিত্তিক সহযোগিতার পদক্ষেপসমূহ এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রণোদনাভিত্তিক উত্তরণপথ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, ‘যদি তা না করা হয়, তবে কভিড-১৯ জনিত নেতিবাচক পরিস্থিতিসহ বিদ্যমান নাজুক পরিস্থিতির কারণে এসব দেশের কষ্টার্জিত উন্নয়ন-অর্জন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।’

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading