পশ্চিমবঙ্গকে ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছে!
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২১ | ০০:০১
জয় বাংলা’ শ্লোগান নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে তুলকালাম চলছে। বাংলাদেশের প্রাণের শ্লোগান ‘জয় বাংলা’ নিয়ে ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি এখন সরগরম। সেদেশের অন্যতম দু’টি সংবাদপত্র আনন্দবাজার পত্রিকা ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস অবলম্বনে এই বিষয়ে উত্তরদক্ষিণের বিশেষ প্রতিবেদন
ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গকে তৃণমূল কংগ্রেস ‘গ্রেটার বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছে বলে অভিযোগ তুলে নতুন বিতর্ক তৈরি করল বিজেপি। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে এমনই অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তার দাবি, তৃণমূল যে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দেয়, তা ‘ইসলামিক বাংলাদেশের’ জাতীয় স্লোগান।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না লিখলেও দিলীপ তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেছেন, ‘মাননীয়া লড়ছেন গ্রেটার বাংলাদেশের লক্ষ্যে’। তৃণমূলের গ্রেটার বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্য রয়েছে বলে আক্রমণের যুক্তি হিসেবে তাঁর পোস্টে তিনটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ।
প্রথমতঃ ভিক্টোরিয়ায় মমতা ব্যানার্জির মুখে ‘বাংলাদেশি স্লোগান’ জয় বাংলা। ২৩ জানুয়ারি কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের অনুষ্ঠানে নেতাজি সুবাস বোসের জয়ন্তীতে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান ওঠায় ক্ষুব্ধ পশ্চিম্বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বক্তৃতা না করলেও প্রতিবাদ জানানোর শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়েছিলেন। অনুষ্ঠানে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত ছিলেন।

বিজেপি নেতার দ্বিতীয় অভিযোগ, তৃণমূলের প্রচারে বাংলাদেশি অভিনেতার (চিত্রনায়ক ফেরদৌস) অংশগ্রহণ। সেদেশের গত লোকসভা নির্বাচনের সময় বাংলাদেশের অভিনেতা ফিরদৌস রায়গঞ্জে তৃণমূল প্রার্থী কানহাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে প্রচার করেন। সেই সময়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি দিলীপ মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘এ বার হয় তো ইমরান খানকেও প্রচারে আনবে তৃণমূল!’’ সেই জল অনেক দূর গড়ায়। শেষ পর্যন্ত ফিরদৌসকে কালো তালিকাভুক্ত করে ইন্ডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণণালয়।
দীলিপের আরেক অভিযোগ, তৃণমূলের উদ্যোগে পুজোয় বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে (সাকিব আল হাসান)নিয়ে আসা। যদিও পরে সাকিব এটা অস্বীকার করেছিলেন।
একা দিলীপই নন, ওই বিষয়ে সরব গোটা বিজেপি-ই। এর আগেও বিজেপি ‘নাগরিকত্ব আইন’ বা ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে একাধিকবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে পশ্চিমবঙ্গকে তারা (তৃণমূল)‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ বানাতে চাইছে।

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারেও একই কথা বলছে বিজেপির উদ্বাস্তু শাখা। ওই শাখার রাজ্য আহ্বায়ক মোহিত রায় বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) বলেন, ‘এটা মনে রাখতে হবে যে, ‘জয় বাংলা’ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘোষণা করা জাতীয় স্লোগান। সেটা এই রাজ্যে ব্যবহার করার লক্ষ্য তোষণ রাজনীতি। এই স্লোগানের মধ্যে লুকিয়ে আছে পশ্চিমবঙ্গকে ভারত থেকে আলাদা করার কথা’।
দিলীপের সুরে সুর মিলিয়ে রাজ্য বিজেপি-র মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মনে রাখতে হবে যে, ‘জয় বাংলা’ শেখ মুজিবুর রহমানের স্লোগান। ১৯৭১ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ প্রথম বেতার ভাষণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহার করেছিলেন। এখনও বাংলাদেশে এটি সমান ভাবে রাজনৈতিক স্লোগান হিসাবে ব্যবহার হয়। সেই স্লোগান এখন কেন মাননীয়া ব্যবহার করছেন তা মানুষ বুঝতে পারছে।’
বিজেপি এখন তাদের রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশ ও জয় বাংলা শ্লোগানকে টেনে আনছে। এর আগে সেদেশের নাগরিকত্ব আইন (এনআরসি) নিয়েও ওকই কাজ করছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সেদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ আপত্তিকর মন্তব্য করে বাংলাদেশকে কটাক্ষ করেছিলেন।
সেই রেশ কাটতে না-কাটতে এখন আবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতারা জয় বাংলা শ্লোগানকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে জড়িয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করেছেন।

