রাজকুমারীকে ‘বন্দি’ করে জাতিসংঘের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আমিরাত

রাজকুমারীকে ‘বন্দি’ করে জাতিসংঘের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আমিরাত

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | আপডেট: ১৫:৪৫

নিজ মেয়ে প্রিন্সেস লতিফাকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে দুবাইয়ের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের বিরুদ্ধে। লতিফার পিতা শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুম বিশ্বের ধনী রাষ্ট্রপ্রধানদের একজন। তিনি দুবাইয়ের শাসক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করে থাকেন, শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদের শাসনব্যবস্থায় ভিন্নমতের প্রতি কোন সহনশীলতা নেই এবং বিচার ব্যবস্থাও নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক। এমন অবস্থায় নতুন জীবনের আশায় ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুবাই থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন লতিফা। পরে বন্ধুদের কাছে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন। বলেছিলেন যে তাকে “জিম্মি” করে রাখা হয়েছে এবং তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এবার মানবাধিকারকর্মীদের চাপের মুখে পড়ে তা নিয়ে তদন্তে নামছে জাতিসংঘ। ওই রাজকুমারীর ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, বিবিসির প্যানোরামা অনুষ্ঠানকে ওই ফুটেজ সরবরাহ করেন রাজকুমারী লতিফা আল মাকতুমের বন্ধুরা। সেখানে রাজকুমারী বলেন, তিনি নৌকায় করে পালিয়ে যাওয়ার পর ভারত মহাসাগর থেকে কমান্ডোরা তাকে অচেতন করে আবার বন্দিশালায় নিয়ে আসে। তখন থেকে তিনি সেখানেই আছেন। বাথরুম থেকে বন্ধুদের কাছে গোপনে ভিডিও পাঠিয়ে তিনি তার বন্দিদশার কথা জানিয়েছিলেন। তবে হঠাৎ করে সে গোপন ভিডিও আসাও বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায় জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা করেন লতিফার বন্ধুরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ তেকে জাতিসংঘকে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। এবার সে আহ্বানে সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন।

লতিফা তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নিরাপদেই রয়েছেন বলে এর আগে দাবি করেছিল দুবাই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার কমিশনার ও আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসনের সঙ্গে ২০১৮ সালে রাজকুমারীর সাথে দেখা করিয়েছিল তার পরিবার। এর নয় দিন পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রবিনসনের সাথে লতিফার ছবি প্রকাশ করে দাবি করেছিল যে রাজকুমারী সুস্থ এবং নিরাপদে রয়েছেন।

এখন বলছেন যে লতিফার পরিবার তাকে “ভয়াবহভাবে ধোঁকা দিয়েছিল।” রবিনসন প্যানোরামা অনুষ্ঠানে বলেন, তাকে এর আগে বলা হয় যে লতিফার বাইপোলার ডিসঅর্ডার নামে মানসিক রোগ রয়েছে, যা আসলে তার ছিল না।

হাইকমিশনারের কার্যালয় লতিফার ব্যাপারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিচ্ছে। এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানিয়েছে, লতিফার ভিডিওগুলো বিশ্লেষণের পর জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিটারি ডিটেনশন-এর পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হবে।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading