রাতে জান্তাদের বিরুদ্ধে জ্বলন্ত মোমবাতি!

রাতে জান্তাদের বিরুদ্ধে জ্বলন্ত মোমবাতি!

উত্তরদক্ষিণ | বুধবার, ৩১ মার্চ, ২০২১ | আপডেট: ১৭:৪৪

মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রাতেও অব্যাহত রয়েছে বিক্ষোভ। বিভিন্ন শহরে মোমবাতি জ্বালিয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ এবং সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে গত কয়েকদিনের সংঘর্ষে নিহতদের স্মরণ করেছে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা। এছাড়াও মিয়ানমারে কর্মরত মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যারা ‘অপরিহার্য নন’ তাদের পরিবারের সদস্যসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটি ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে আমেরিকা। খবর রয়টার্স।

মিয়ানমারের ঘটনাবলী পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী অ্যাস্টিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিকাল প্রিজনার্স (এএপিপি) জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শনিবার দেশটি একদিনে ১৪১ জনের মৃত্যু দেখেছে।

মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) ও দেশটিতে আট বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে এএপিপি। এদিন মিয়ানমারের বেশ কয়েকটি শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী মিছিল করেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবারের বিক্ষোভের ছবিও এসেছে। এ দিন রাতে মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে কারফিউ উপেক্ষা করে রাতভর মোমবাতি জ্বালিয়ে অভ্যুত্থানবিরোধী প্রতিবাদ করেছে আন্দোলনকারীরা। বুধবার ভোরের দিকে অন্তত একটি এলাকায় জান্তাবিরোধী মিছিল হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তর্তী এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী কয়েকটি গোষ্ঠীর লড়াইও তীব্রতর হয়েছে; সংঘর্ষের হাত থেকে বাঁচতে অনেকেই সীমান্ত পার হয়ে প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন।

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কাচিন ইন্ডিপেন্ডেন্স আর্মি (কেআইএ) বুধবার স্থানীয় সময় ভোররাত ৩টার দিকে কাচিন রাজ্যের একটি থানায় হামলা চালিয়েছে বলে কাচিন নিউজ গ্রুপ জানিয়েছে। বুধবার ভোরের দিকে এ রাজ্যের মোয়েগংয়ে বেসামরিক বিক্ষোভকারীরা জান্তাবিরোধী বিক্ষোভ করেছে বলেও নিউজ গ্রুপটি জানিয়েছে।এসব বিষয়ে মিয়ানমারের পুলিশ ও সামরিক জান্তার মুখপাত্রের মন্তব্যের জন্য ফোন করা হলেও তারা তাতে সাড়া দেননি বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

থাইল্যান্ডের কাছে মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলোতে সক্রিয় বিদ্রোহী গোষ্ঠী কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন (কেএনইউ) মঙ্গলবার জানিয়েছে, সরকারি বাহিনী শিগগিরই তাদের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ করবে বলে ধারণা করছে তারা।

নিরস্ত্র মানুষদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি মিয়ানমারের সামরিক জান্তার সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্নের’ আহ্বান জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে যাওয়া লোকজনকে সহযোগিতা করতে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে থাইল্যান্ডের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।এছাড়াও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মিয়ানমারের জান্তাবিরোধীরা বিদ্রোহী বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে একটি ‘ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট’ গড়ার ডাক দিয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্রিয়াশীল বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী কয়েক দশক ধরেই অধিক স্বায়ত্তশাসনের জন্য সরকারি বাহিনীগুলোর সঙ্গে লড়ছে। সামরিক বাহিনীও এ লড়াইগুলোকে তাদের ক্ষমতা দখলের পেছনে অন্যতম যুক্তি হিসেবে হাজির করছে।

“মিয়ানমারের সেনাবাহিনীই একমাত্র প্রতিষ্ঠান, যারা জাতীয় ঐক্য নিশ্চিতে সক্ষম,” বলছে তারা।

কয়েকদিন আগেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর উড়োজাহাজ কেএনইউ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে বোমা ফেলে; সংঘাতের হাত থেকে বাঁচতে সেখানকার প্রায় তিন হাজার গ্রামবাসী পরে থাইল্যান্ডে পালায়।

থাইল্যান্ডের বিরুদ্ধে এ আশ্রয়প্রার্থীদের ফের মিয়ানমারে ঠেলে পাঠানোর অভিযোগ উঠলেও ব্যাংকক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে গত ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকে দেশটিতে যে অভ্যুত্থানবিরোধী আন্দোলন চলছে তাতে এরই মধ্যে অন্তত ৫২১ জন নিহত হয়েছে।

mashiurjarif

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading