যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো পরিবেশ ও যাত্রীবান্ধব না: নৌ প্রতিমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ | রবিবার, ২৩ মে ২০২১ | আপডেট ১৫:৫০
দেশের নৌ নিরাপত্তা খাতে দুর্বলতার কথা স্বীকার করে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমাদের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো পরিবেশ ও যাত্রীবান্ধব না। আমাদের এই খাতে দক্ষ জনবল এবং পর্যাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে। নৌ চলাচল ব্যবস্থায় ব্যবস্থাপনার ঘাটতি আছে। এই দুর্বলতাগুলো দীর্ঘদিনে একটু একটু করে সৃষ্টি হয়েছে। আমরা তা কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
রবিবার (২৩ মে) ‘নোঙর বাংলাদেশ’ আয়োজিত ’২৩ মে জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবিতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এই খাতের দুর্বলতার কথা স্বীকার করে তা উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এই দেশ নদীমাতৃক দেশ, নদী ছাড়া বাংলাদেশ ভাবা যায় না। নদী না থাকলে বাংলাদেশ মরুভূমিতে পরিণত হবে। নদীর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের দুর্ভোগ পোহাতে হবে। যা আমরা এরই মধ্যে চরাঞ্চলে দেখতে পাচ্ছি, সেখানে শুস্ক মৌসুমে পানিরর ঘাটতি থাকে। এ ছাড়া বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়তে থাকার কারণে আমরা ঝুঁকির মধ্যে আছি।’ ২৩ মে জাতীয় নৌ নিরাপত্তা দিবস’ ঘোষণার দাবির প্রতি প্রতিমন্ত্রী একাত্মতা ঘোষণা করে এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
নোঙর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুমন শামস বলেন, ‘নৌপথে কোনোভাবেই যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। প্রতি বছরই দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। গত ২২ বছরে সাত শতাধিক ছোট-বড় নৌ-দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি ঘটেছে প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষের। প্রতিটি ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও খুব বেশি রিপোর্ট আলোর মুখ দেখেনি। কিছু রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি। আসলে কমিটির রিপোর্ট বাস্তবায়ন হয় না বলে দুর্ঘটনাও বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। নোঙর বাংলাদেশ ১৬ বছর ধরে বহুবিধ কর্মসূচির মাধ্যমে ২৩ মে দিবসটি নৌ-নিরাপত্তা দিবস হিসেবে পালন করছে। ২৩ মে তারিখে নোঙরের জন্য একটি মাইলস্টোন হিসেবে বাংলাদেশে প্রথম আন্দোলন শুরু। এই দিনটিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিনীত আবেদন, গত ৫০ বছরে নৌপথে দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে ২৩ মে দিনটিকে জাতীয় নৌ-নিরাপত্তা দিবস ঘোষণা করে আগামী দিনের নৌপথের যাত্রীদের মধ্যে স্থায়ী সচেতনতা গড়ে তোলার ব্যবস্থা করে দিলে একদিন সারা বিশ্বে এই দিবস পালিত হবে।’
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, ‘আমাদের যে নৌপথ এবং নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে তার শতভাগ সুষ্ঠু ব্যবহারে আমরা কাজ করছি। নৌপথে আমরা একটিও দুর্ঘটনা আশা করি না। এরই মধ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমিয়ে এসেছে, সামনে আরও কমবে।’

