পানিতে তলিয়ে যাবে ইন্ডিয়ার ১২ শহর: নাসা

পানিতে তলিয়ে যাবে ইন্ডিয়ার ১২ শহর: নাসা

উত্তরদক্ষিণ| বুধবার, ১১ আগস্ট ২০২১| আপডেট ১৬:১৫

সতর্ক করে দিল নাসা। এই শতকের শেষে মুম্বাই, চেন্নাই, কোচিসহ ভারতের ১২টি শহর প্রায় তিন ফুট পানির তলায় চলে যাবে। এরকমই রিপোর্ট দিয়েছে ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি)। আর নাসা তার বিশ্লেষণ করেছে। তারপর নাসা যে সিদ্ধান্তে এসেছে, তা ইন্ডিয়ার পক্ষে রীতিমতো চিন্তার কারণ। দেশের ১২টি উপকূলীয় শহর ও বন্দর এক থেকে তিন ফুট পানির তলায় চলে যাবে। এই শহরগুলির মধ্যে আছে বাণিজ্য রাজধানী মুম্বাই, দক্ষিণ ইন্ডিয়ার অন্যতম প্রধান শহর চেন্নাই। তাছাড়া কেরালার কোচি, অন্ধ্রের বিশাখপত্তনম এবং পশ্চিমবঙ্গের খিদিরপুর এই তালিকায় আছে।

বিশ্বে পরিবেশ দূষণ, উষ্ণায়নসহ বিভিন্ন কারণে সমুদ্রের পানির স্তর বাড়ছে। এশিয়ায় পানির স্তর বৃদ্ধির পরিমাণ অন্য জায়গার তুলনায় বেশি। আইপিসিসি-র মতে, আগে একশ বছরে যে পরিবর্তন হতো, ২০৫০-এর মধ্যে প্রতি ছয় থেকে নয় বছরে তা হবে। এই শতাব্দী জুড়ে উপকূলে পানির স্তর বাড়বে, ভাঙন দেখা দেবে, অনেক শহর চলে যাবে পানির তলায়। এককথায় পরিস্থিতি বড় সুখের নয়।

কী করে ঠেকানো যাবে এই ভয়ংকর ভবিষ্যৎকে? পুনর্বসু চৌধুরী পরিবেশবিজ্ঞানী। তিনি অ্যান্টার্কটিকায় ইন্ডিয়ার মিশন থেকে সম্প্রতি ফিরেছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টা সেখান থেকেই সব চেয়ে ভাল বোঝা যায়। গত ফেব্রুয়ারিতে অ্যান্টার্কটিকায় তাপমাত্রা ছিল রেকর্ড ১৮ ডিগ্রি। তখনো তিনি সেখানে ছিলেন।

পরিবেশবিজ্ঞানী পুনর্বসু জানিয়েছেন, ”জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে নানারকম আলোচনা হয়। প্যারিস কনভেনশন থেকে শুরু করে নানা জায়গায় বহু সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু পরিবেশকে তখনই নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, যখন ব্যক্তিপর্যায়ে কার্বন নিঃসরণ কমানো যাবে। আমাদের বর্তমান জীবনযাত্রায় কার্বন নিঃসরণের হার কমানো অসম্ভব।” তার মতে, ”গাড়ি, এসিসহ বিভিন্ন জিনিসের ব্যবহার বা অভ্যাস বদল না করলে শুধু জাতীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানো যাবে না।”

পরিস্থিতি কতটা খারাপ তা বোঝাতে একটা উদাহরণ যথেষ্ট। শিল্পবিপ্লবের সময় কার্বন নিঃসরণের যে পরিমাণ ছিল, এখন তা দ্বিগুণেরও বেশি। ফলে মানুষকে বাঁচতে গেলে, বিশ্বকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি ব্যক্তিকে উদ্যোগী হতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতে হবে বলে মনে করেন পুনর্বসু।

দীর্ঘদিন সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন অমিতাভ রায়। পরিকল্পনা কমিশনের অবসরপ্রাপ্ত এই কর্তার মতে, ”আমরা প্রায়ই শপথ নিই যে, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে ফেলব, বাস্তবে তা হয় না। খাতায়-কলমে অনেক পরিকল্পনা নেয়া হয়, আমরা অনেক প্রতিজ্ঞা করি, অনেক চুক্তিতে সই করি, বাস্তবে তার প্রয়োগ করা হয় না বলেই আইপিসিসি যে রিপোর্ট দিয়েছে, তা সত্যি হলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।”

ফলে পরিস্থিতি খুব সুখের নয়। আইপিসিসি রিপোর্ট বলছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আঞ্চলিক স্তরেও নানা পরিবর্তন হতে পারে। বৃষ্টি বেশি হবে, আবার কোথাও বৃষ্টি হবে না। খরা দেখা দেবে। কোথাও প্রচুর বরফ পড়তে পারে। ২০০৬-১৮ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তর নিয়ে যে সমীক্ষা করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে, গোটা বিশ্বে প্রতি বছর জলস্তরের গড় বৃদ্ধি হয়েছে ৩.৭ মিলিমিটার। ফলে এখন থেকেই সতর্ক হয়ে পরিবর্তন রোধ করার চেষ্টা না করলে ভবিষ্যৎ ভয়ংকর হতে বাধ্য। কারণ, পরিবর্তন রোধ করার কাজ রাতারাতি হয় না। তাতে অনেক সময় লাগে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই অনেক দেরি হয়ে গেছে। অবিলম্বে ব্যক্তি থেকে সরকার প্রতিটি পর্যায়ে উদ্যোগ দরকার। সূত্র: ডয়েচে ভেলে

ইউডি/বিকে

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading