শীত আসার সময় এখনো হয়নি
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১ । আপডেট ১১:২০
মধ্য কার্তিকের এই সময়টায় এসে অনেকেই প্রহর গুনছেন শীতের অপেক্ষায়। এখনো কেন শীত আসছে না— তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা অনেকের মধ্যেই। কিন্তু আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, শীত আসার সময় এখনো হয়নি। আর গত বছর কিছুটা আগেভাগে চলে এলেও এবার যথাসময়েই আসবে শীত।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাধারণত বঙ্গোপসাগরে সাইক্লোন বা কোনো নিম্নচাপ না থাকলে বাংলাদেশে শীত শুরু হয় নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বা শেষের দিকে। তবে গত বছর নভেম্বরের শুরু থেকেই ভোরে হালকা কুয়াশার সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস আর রাত গভীর হলে শীতের অনুভূতি হচ্ছিল। এবারে নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে কোনো সাইক্লোন বা লঘুচাপের পূর্বাভাস না থাকায় যথাসময়েই আসবে শীত।
আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য বলছে, আজ মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস— দু’টিই গোপালগঞ্জে। সাধারণত তাপমাত্রা যখন টানা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বার তার নিচে নেমে আসে, তখনই শীত বলে ধরে নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেন, দেশে এখনো সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। অক্টোবর ও নভেম্বরে সাধারণত গরম থাকে। এসময়ে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে থাকে। আবার কখনো কখনো এই সময়ে সমুদ্রে সাইক্লোন তৈরি হয়, যার প্রভাবে শীতের আগমন পিছিয়ে যায়। এ বছর এখন পর্যন্ত সেরকম কোনো পূর্বাভাস নেই। নভেম্বরেও কোনো সাইক্লোন তৈরি হবে কি না, সেটিও এত তাড়াতাড়ি বলা যাচ্ছে না। তাই শীতের আমেজ পেতে পেতে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের পর বা শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
বছরের ১২ মাসকে বাংলায় ছয়টি ঋতুতে ভাগ করা হলেও আবহাওয়াবিদরা মূলত চারটি ঋতু হিসাব করে থাকেন। তাদের হিসাবে মার্চ থেকে মে পর্যন্ত তিন মাস ‘প্রি-মনসুন’ জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার মাস ‘মনসুন’, অক্টোবর ও নভেম্বর ‘পোস্ট মনসুন’ এবং ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন মাস ‘উইন্টার’। এই পোস্ট মনসুনের শেষ ভাগে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে দেখা দেয় শীতের আভাস, যদি বঙ্গোপসাগরে কোনো ধরনের নিম্ন বা লঘুচাপ তৈরি না হয়।
আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই সময়ে অর্থাৎ নভেম্বরের শেষ দিকে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে শীতল ও শুষ্ক বাতাস চলে আসে ভারতীয় উপমহাদেশে। সেই বাতাস হিমালয়ে ধাক্কা খেয়ে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল দিয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশে। আর তখনই মূলত শুরু হয় শীত।
আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক বলেন, হিমালয় থেকে শীতল সেই বাতাসের একটি অংশ বাংলাদেশে প্রবেশ করে সিলেট অঞ্চল দিয়ে, একটি অংশ রংপুর অঞ্চল দিয়ে। এ কারণে এই দুই অঞ্চলে দেশের অন্য যেকোনো এলাকায় তুলনায় আগে শীতের অনুভূতি আসে। আর এই প্রক্রিয়াটি মূলত ঘটে থাকে নভেম্বরের ২০ তারিখের আশপাশে।

