শুভ জন্মদিন সুরের পাখি রুনা লায়লা

শুভ জন্মদিন সুরের পাখি রুনা লায়লা

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৭ নভেম্বর ২০২১। আপডেট ১০:০০

কিংবদন্তিসম সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশেও খ্যাতিমান তিনি। পাঁচ দশকের সংগীত জীবনে ১৯টি ভাষায় অসংখ্য গান গেয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই কণ্ঠশিল্পীর নাম সৃজনশীলতায় সেরা শীর্ষ ৩০ বাঙালির তালিকায় রয়েছে। আজ রুনা লায়লার ৬৯তম জন্মদিন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে জানা যায়, রুনা লায়লা সংগীতশিল্পী নয়, তাঁর হওয়ার কথা ছিল নৃত্যশিল্পী। টানা চার বছর করাচীর বুলবুল ললিতকলা একাডেমিতে ভরতনাট্যম, কত্থক, কথাকলি শেখেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত গানেই থেকে যান।

১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর সিলেট জেলায় জন্মগ্রহণ করেন রুনা লায়লা। বাবার নাম সৈয়দ মোহাম্মদ ইমদাদ আলী ও মা আমিনা লায়লা। বাবার চাকরির সূত্রে রুনা লায়লার শৈশব এবং কৈশোরের কিছু সময় তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে কেটেছে। মাত্র ৬ বছর বয়সে রুনা লায়লা প্রথম মঞ্চে গান পরিবেশন করেন। তাঁর প্রথম গান প্রকাশিত হয় ১৯৬৪ সালে। অল্প বয়স থেকে স্টেজে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি করাচি রেডিওতে গান গেয়ে পরিচিতি লাভ করেন তিনি।

১৯৬৭ সালে পাকিস্তানি চলচ্চিত্রে ‘দাইয়ারে দাইয়ারে দাইয়া’ গানটি গেয়ে ব্যাপক প্রশংসা পান রুনা লায়লা। ১৯৬৮ সালে ঢাকার সুরকার সুবল দাস রুনা লায়লাকে দিয়ে প্রথম ‘স্বরলিপি’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ান। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর নিজের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন রুনা লায়লা। ১৯৭৪ সালের শুরুতে প্রয়াত সত্য সাহার সুরে ‘জীবন সাথী’ চলচ্চিত্রে গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি। এরপর অসংখ্য চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন তিনি। বাংলাদেশে চলচ্চিত্র, পপ ও আধুনিক সংগীতের জন্য বিখ্যাত রুনা লায়লা। বাংলাদেশের বাইরে গজল গায়িকা হিসেবেও তাঁর সুনাম আছে।

১৯৭৪ সালে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল ফর কালচারাল রিলেশনশিপসের (আইসিসিআর) আমন্ত্রণে ভারত সফর করেন রুনা। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস করেন। কল্যাণজি-আনন্দজির সুরে হিন্দি ছবি ‘এক সে বারকার এক’-এর টাইটেল সঙের প্লেব্যাক ছিল তার প্রথম হিন্দি গান। এছাড়া ‘দমাদম মাস্ত কালান্দার’-এর কথা সবারই জানা- যার জন্য ইন্ডিয়াতে তার নাম হয়েছিল ‘দামদাম গার্ল’। তার গাওয়া অন্যান্য হিন্দি গানের মধ্যে আছে ‘দে দে পেয়ার দে’, ‘আও সুনলো’, ‘মেরা বাবু ছেল ছাবিলা’ ইত্যাদি।

সুরকার নিসার বাজমির ১০টি করে তিন দিনে মোট ৩০টি গান রেকর্ডের পর রুনা লায়লা নাম লেখান গিনেস বুকে। বাংলা-হিন্দি-উর্দু ছাড়াও গুজরাটি, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালিয়, স্প্যানিশ, ফরাসি ও ইংরেজিসহ মোট ১৮টি ভাষায় গান গাওয়া, নিজের সংগীতজীবন নিয়ে নির্মিত ‘শিল্পী’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করা-সব মিলিয়ে রুনা লায়লা হয়ে ওঠেন উপমহাদেশের অন্যতম সংগীত কিংবদন্তি।

বাংলাদেশে ৭ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, ভারতের সায়গল পুরস্কার, পাকিস্তানে দুইবার নিগার পুরস্কার, দুইবার গ্র্যাজুয়েট পুরস্কার, সমালোচক পুরস্কার ও জাতীয় সংগীত পরিষদ স্বর্ণপদকসহ দেশ-বিদেশের নানা পুরস্কার অর্জন করেছেন রুনা লায়লা। এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন এই গুণী সংগীতশিল্পী। ব্যক্তিগত জীবনে রুনা লায়লা দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক আলমগীরের সহধর্মিণী।

Asadujjaman

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading