অভাবের সংসারে সাফল্য
সাইফুল অনিক । রবিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২১ । আপডেট ১২:৫৫
প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে দেখা যায় অদম্য মেধাবী শিরোনামে মেধাবীদের ইর্ষণীয় সাফল্যের সংবাদ। অভাবের সংসার থেকে নিজ মেধায় ও গুণে তারা অর্জন করে দেশ আলোড়ন করা সাফল্য। তেমনি এক সাফল্য অর্জন করেছে বাংলার মেয়েরা। সাফ অনূর্ধ্ব ১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নিল বাংলাদেশ। পরিচর্যার অপ্রতুলতা থাকা স্বত্বেও নিজ মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে ছিনিয়ে এনেছে জয়ের মুকুট।
পাঁচ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও সেরা খেলোয়াড় শাহেদা আক্তার রিপা। কক্সবাজারের এই মেয়ের জীবনের গল্প অনেক কাঠখড় পোড়ানোর। রিপার বাবা জালাল আহমেদ দিনমজুরের কাজ করেন। রিপার ভাষ্য মতে, ‘আমি ও আমার ভাই বোন কখনো গাইড বই কিনতে পারিনি। প্রাইভেটও পড়তে পারিনি। এভাবেই আমরা পড়াশোনা করেছি।’
বাফুফে থেকে যথেষ্ট পরিচর্যা ও নামীদামী কোচ না থাকলেও সাফল্যের জন্য নিজেদের সেরাটাই দিয়েছেন রিপার মত তার সতীর্থরা। অথচ পুরুষ ফুটবল দলে নেই তেমন কোন সাফল্য। ভাল মানের কোচ, উন্নত সুযোগ-সুবিধা থাকা স্বত্বেও সাফল্য নেই নাগালের মধ্যে। কিছুদিন আগে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত হওয়া সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে পুরুষ মূল দলের নেই তেমন কোন সাফল্য। হতাশার চাদরে মুড়ে দেশে ফিরেছিলেন তারা।
অন্যদিকে, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা খুদে কিশোরীরা শক্তিশালী দল গুলোকে হারিয়ে পেয়েছে সাফল্য। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ বা কোচ; যাই বলি তাদের অনেকেরই তা ছিল না। স্কুল ভিত্তিক ফুটবল খেলা কিশোরীরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, “সাফল্যে অদম্য ইচ্ছা শক্তিই যথেষ্ট।”
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী
ইউডি/ অনিক

