রিজভীর অভিযোগ: দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই রকম প্রয়োগ
উত্তরদক্ষিণ । রবিবার, ৯ জানুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৮:৪৫
দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের দুই রকম প্রয়োগ হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রবিবার (৯ জানুয়ারি) ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সরকার করেছে, এটা একটা জুলুমের আইন করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই আইনে বিরোধী মতের লোক যদি মামলা করে, দেখবেন যে- সকালে মামলা নেবে বিকালে বলবে যে খারিজ করে দিয়েছে কোর্ট। আর আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যদি মামলা করেন, দেখবেন সেই মামলার প্রথম থেকে সুন্দর প্রক্রিয়া চলবে। বিএনপির সেই লোকটিকে আদালতে হাজির করতে পুলিশ গ্রেপ্তার করবে, কারাগারে পাঠাবে; তারপরে জামিনের জন্য বারবার আবেদন করবে তার আইনজীবী, জামিন দেবে না। অনেক দিন ছয় মাস এক বছর, দেড় বছর পর হয়ত সে মুক্তি পাবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা আদালতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার আবেদন করেছিল বিএনপি। কিন্তু আবেদনে গ্রহণযোগ্য ‘উপাদান না পাওয়ার’ কারণ দেখিয়ে সেসব মামলা নেয়নি আদালত।
দেশে বর্তমানে ‘ভয়ংকর শ্বাসরুদ্ধকর’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে মন্তব্য করে রিজভী বলেন, “আমরা এমন একটি সমাজে বাস করি- যেখানে কথা বলা যায় না, বাক স্বাধীনতা নেই। ডানে-বামে সবসময় তাকাতে হয়, কেউ আমাকে অনুসরণ করছে কি না বা আমি কারো দ্বারা অনুসৃত হচ্ছি কি না।”
বর্তমান সরকারের আমলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘সত্য কথা বলার জন্য’ অ্যাক্টিভিস্টদের ওপর দমন-পীড়নের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী।
নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচ তলায় জাতীয়তাবাদী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের উদ্যোগে প্রয়াত অললাইন অ্যাক্টিভিস্ট এম এম ওবায়দুর রহমান, কামারুল হাসান শাহীন, তনিমা সোমা, শান্ত ইসলাম জুম্মনসহ অন্যদের স্মরণে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়।
কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ওয়াহিদুজ্জামান অ্যাপেলো, আবদুস সালাম আজাদ, আমিরুজ্জামান শিমুল, হায়দার আলী লেলিন, কাজী রফিক, ওবায়দুর রহমান টিপু বক্তৃতা করেন।

