ইউক্রেন সমস্যা: সবপক্ষকে উৎসমূলে যাওয়ার আহ্বান চীনের

ইউক্রেন সমস্যা: সবপক্ষকে উৎসমূলে যাওয়ার আহ্বান চীনের

উত্তরদক্ষিণ । বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৯:৪০

পাশ্চাত্য দেশসমূহের সামরিক জোট ন্যাটোকে ঘিরে ইউক্রেন-রাশিয়ার দ্বন্দ্বের ফলে যে বৈশ্বিক উত্তেজনা শুরু হয়েছে, তা নিরসনে বিবদমান সবপক্ষকে সমস্যার উৎসমূল মিনস্ক চুক্তিতে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর মধ্যে ইউক্রেন ইস্যুতে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেখানেই ওয়াং ই এই আহ্বান জানিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এ সম্পর্কিত এক বিবৃতিতে ওয়াং ই বলেন, ‘মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী টেলিফোনে আমাকে বলেছেন, সশস্ত্র যুদ্ধের পথ পরিহার করে কূটনৈতিক ভাবে ইউক্রেন ইস্যুটি সমাধান করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ। উত্তরে আমি বলেছি, প্রথমে আমাদের সবাইকে শান্ত হতে হবে এবং উত্তেজনা বাড়াতে পারে- এমন যাবতীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত রাখতে হবে।’

‘তারপর আমাদের ফিরতে হবে মিনস্ক ২ চুক্তিতে, যেটি এই পরিস্থিতির উৎসমূল। আমরা, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা যদি এই চুক্তিটি পর্যালোচনা করে ও সময়োপযোগী করে তোলার চেষ্টা করি, সেক্ষেত্রে উপস্থিত সংকট সমাধানের একটি পথ উঠে আসবে বলে চীন বিশ্বাস করে।’

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অঙ্গরাজ্য ও রাশিয়ার প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইউক্রেন কয়েক বছর আগে ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য আবেদন করার পর থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। সম্প্রতি ন্যাটো ইউক্রেনকে সদস্যপদ না দিলেও ‘সহযোগী দেশ’ হিসেবে মনোনীত করায় আরও বেড়েছে এই উত্তেজনা।

১৯৪৯ সালে গঠিত হওয়া নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অ্যালায়েন্সকে (ন্যাটো) রাশিয়া বরাবরই পাশ্চাত্য শক্তিসমূহের আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে মনে করে; এবং ঐতিহাসিকভাবেই বিশ্বের বৃহত্তম দেশ রাশিয়া পাশ্চাত্য আধিপিত্যবাদের বিরোধী। এছাড়া, একসময়ের সোভিয়েত অঙ্গরাষ্ট্র ইউক্রেনের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ রুশ বংশোদ্ভুত। দেশটিতে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীও বেশ সক্রিয়। এই গোষ্ঠীর সশস্ত্র সহায়তায় ২০১৪ সালে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দ্বীপের দখল নেয় রাশিয়া।

রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখলের পর ওই বছর, ২০১৪ সালে বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে ‘মিনস্ক ১’ চুক্তি স্বাক্ষর করে রাশিয়া ও ইউক্রেন। মূলত এই চুক্তিটি ছিল ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সংঘাতের সমাপ্তি টানার দলিল। পরের বছর ২০১৫ সালে চুক্তির কিছু শর্ত সংশোধন করে চুক্তিটি নবায়ন করা হয় ‘মিনস্ক ২’ নামে।

তবে রাশিয়ার অভিযোগ, মিনস্ক ২ চুক্তির বেশিরভাগ ধারাই বাস্তবায়িত হয়নি। পাশপাশি, মস্কো আরও জানিয়েছে, চুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় রাশিয়ার নিরাপত্তার স্বার্থেই ইউক্রেন রাশিয়া সীমান্তে সেনা মোতায়েন রাখা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের প্রথম দিকে ইউক্রেন-রাশিয়া সীমান্তে ১ লাখেরও বেশি রুশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ওই মাসের শেষ দিকে বেশিরভাগ সেনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে মস্কো; তবে এখনও সীমান্তে ১০ হাজারের মতো রুশ সেনা অবস্থান করছে।

টেলিফোন সংলাপে ব্লিনকেনকে ওয়াং ই বলেন, একটি দেশের নিরাপত্তাকে জোর দিতে গিয়ে অন্যান্য দেশ এবং পূর্ব ইউরোপের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা যেমন সমীচিন নয়, তেমনি সেনা উপস্থিতি বাড়িয়ে যুদ্ধের উত্তেজনার সৃষ্টির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে এ সম্পর্কে ওয়াং ই বলেন, ‘মিনস্ক-২ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদিত একটি চুক্তি এবং এখন পর্যন্ত এই চুক্তিটি বিবদমান সবপক্ষের আকাঙ্ক্ষার একটি সফল বাস্তবায়ন। আমরা চাই, এই চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হোক এবং এক্ষেত্রে যা যা সহযোগিতা প্রয়োজন- তার সব দিতে বেইজিং প্রস্তুত আছে।’

ইউডি/সিফাত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading