ইউক্রেন বিমানবন্দরে বিদেশি যাত্রীদের ভিড়
উত্তরদক্ষিণ । সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২ । আপডেট ১৫:৩০
ইউক্রেনের আকাশপথে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় দেশটিতে বসবাসরত বিদেশিরা নিজ দেশে পাড়ি জমাতে শুরু করেছে। তাদেরই একজন মরক্কোর উদ্যোক্তা এমরান বাউজিয়ান। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ বিমানবন্দরে অপেক্ষারত অবস্থায় যখন তার ফ্লাইটের বোর্ডিং চিহ্ন জ্বলে উঠল সঙ্গে সঙ্গে তার চোখেমুখে ফুটে উঠল স্বস্তি।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ইউক্রেন সীমান্তে লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে মস্কো। দুই দেশের মধ্যে এমন উত্তেজনার মধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে অবস্থানরত নিজ দেশের নাগরিকদের ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে অনেক রাষ্ট্রই। এরপর থেকেই কিয়েভ ছাড়তে শুরু করেন বিদেশিরা।
বিমানবন্দরের পাসপোর্ট কন্ট্রোলের দিকে হেটে যাওয়ার সময় ২৩ বছর বয়সী এমরান বলেন, ‘আমি মনে করি যতোদ্রুত সম্ভব ইউক্রেন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আমি পরিস্থিতির কারণেই এখান থেকে চলে যাচ্ছি। কারণ আমার কাছে জীবনের মূল্য অনেক।
আমেরিকা সতর্ক করে জানিয়েছে যে কোনো দিনই রাশিয়ার সেনারা ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কোনো মুহূর্তে ইউক্রেনের আকাশে নিজেদের বিমান পাঠানো বন্ধ করে দিতে পারে বিমান সংস্থাগুলো। এছাড়াও ইউক্রেনের সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে নেদারল্যান্ডসের এয়ারলাইনস কোম্পানি কেএলএম। ইউক্রেন সীমান্তে এক লাখের বেশি রুশ সেনার মহড়ার কারণে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে এমন কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে তারা।
ইউক্রেনে খেলাধুলা নিয়ে কাজ করা মার্কিন কোচ ডেনিস লুসিনস বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করিনা তেমন (যুদ্ধের) কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে চলেছে। তবে দুঃখের বিষয় হলো এখন পর্যন্ত কেউই এটি ধারণা করতে পারছেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কোন পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছেন।’
এদিকে ইউক্রেন জুড়ে সবার মধ্যে যুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি হলেও কিয়েভ বিমানবন্দরে এর ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে অবস্থান করা লোকজনকে শান্তভাবে কফি পান, কেক খেতে এবং সূর্যের আলোয় গিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।
অন্যদিকে রাশিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে একের পর এক গোয়েন্দা নথি প্রকাশ করায় আমেরিকার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কিয়েভ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমায়ার জেলেনস্কি বলেন, ‘এই সমস্ত তথ্য আমাদের উপকার করার চেয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়াচ্ছে বেশি।’

