৭০ শতাংশ নারী দৈহিক গড়ন নিয়ে কটাক্ষের শিকার: জরিপ
উত্তরদক্ষিণ । শনিবার, ৫ মার্চ ২০২২ । আপডেট ২১:৪০
দৈনন্দিন জীবনে ঘরে এবং বাইরে ৭০ শতাংশ নারী তাদের চেহারা, গায়ের রং, উচ্চতাসহ দৈহিক গড়ন নিয়ে নানা ধরনের বিরূপ মন্তব্যের শিকার হচ্ছেন বলে এক জরিপে উঠে এসেছে। ‘তরুণীদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং মানসিক স্বাস্থ্যে এর প্রভাব’ শীর্ষক এক জরিপে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আঁচল ফাউন্ডেশন।
শনিবার (৫ মার্চ) ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস সামনে রেখে পরিচালিত এই সমীক্ষার ফলাফল তুলে ধরেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি তানসেন রোজ। প্রতিদিনের জীবনে নারীরা কতটা বৈষম্য, লাঞ্ছনা, যৌন হয়রানি, সমাজ ও পরিবারের বাধা এবং নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সম্মুখীন হয়েছেন এবং সেসব ঘটনা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে কেমন প্রভাব ফেলেছে তা এই জরিপে তুলে ধরা হয়।
জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ৬৯ দশমিক ৯২ শতাংশ তরুণী তাদের শারীরিক অবয়ব নিয়ে নানা ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন। এদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ২৪ শতাংশ তরুণী বলছেন, শরীরের আকৃতি, গঠন এবং অবয়ব নিয়ে আত্মীয়রাই কথায় ও ইঙ্গিতে হেয় প্রতিপন্ন করেন তাদের। এছাড়াও বন্ধুবান্ধবের কাছে বডি শেমিংয়ের শিকার হয়েছেন ২২ শতাংশ। আর ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ তরুণী বলেছেন, পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও এ ধরনের মন্তব্য শুনেছেন তারা। বিভিন্ন জেলা এবং বিভাগের ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক হাজার ১৪ জন শিক্ষিত তরুণী জরিপে অংশ নেন। এদের মধ্যে ৮৮ দশমিক ১৭ শতাংশ অবিবাহিত, ১০ দশমিক ৯৫ শতাংশ বিবাহিত এবং বাকিরা আর সংসার করছেন না।
আঁচল ফাউন্ডেশন জানায়, গায়ের রঙে নিয়েও ৩৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ তরুণী এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান। এছাড়া উচ্চতা, মুখাবয়বের গঠন ও দাগ, কণ্ঠস্বর নিয়েও নানা বিরূপ কথা শুনেছেন তরুণীদের অনেকেই। জরিপে অংশ নেওয়া ২৪ দশমিক ৪৬ শতাংশ তরুণী মনে করেন, আর্থিক অস্বচ্ছলতা তাদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি বেকারত্বের কারণে ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ তরুণী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে প্রতিনিয়ত হেয় প্রতিপন্ন হলে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং হীনমন্যতা কাজ করে। পরে এসব ঘটনা আত্মহত্যার অনুঘটক হিসেবেও ভূমিকা রাখে। সমীক্ষা বলছে, পারিবারিক টানাপোড়েন তরুণীদের মানসিক স্বাস্থ্যে সবচেয়ে প্রভাব ফেলে; যা ৩১ দশমিক ৮৫ শতাংশ। বাবা-মা অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া ২৭ দশমিক ৩২ শতাংশের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আঁচল ফাউন্ডেশন জানায়, জরিপে অংশ নেওয়া ২৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ তরুণী নিজেদের সম্মতি না থাকার পরও পরিবার থেকে বিয়ের চাপের সম্মুখীন হন। এদের মধ্যে ১০৯ জনের পরিবার পরে বিয়ে না হওয়ার ভয় থেকে এমন চাপ সৃষ্টি করেন। ‘কমবয়সী মেয়েদের ভালো বর হয়’ এমন ধারণার কারণে ৮৬ জনের উপর পারিবারিকভাবে বিয়ের চাপ আসে।
সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ৬৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ তরুণী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ তরুণী বলছেন, তারা বিকৃত যৌন ইচ্ছার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত বা কুদৃষ্টির মাধ্যমে নিগ্রহের শিকার হয়েছেন। ২৯ দশমিক ৬২ শতাংশ তরুণীকে আপত্তিকর স্পর্শের ভুক্তভোগী হতে হয়েছে। আর বিভিন্ন স্থানে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছেন ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন ও আত্মহত্যার ঝুঁকি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে আঁচল ফাউন্ডেশন ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে।
ইউডি/সুস্মিত

