প্রাণীজগতে কার বুদ্ধি কেমন?

প্রাণীজগতে কার বুদ্ধি কেমন?

উত্তরদক্ষিণ । শুক্রবার, ১১ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১২:৩০

তারা কেউ গুনতে পারে, কেউ আবার বিভিন্ন ভাষা শনাক্ত করতে পারে। কেউ পারে আয়নায় নিজেদের চিনতে৷ পায়রা থেকে ডলফিন – প্রাণীজগতের বুদ্ধিমত্তা কিন্তু সত্যি অবাক করে দেয়। প্রাণীদের বুদ্ধি নিয়ে ডয়েচে ভেলে অবলম্বনে জানাচ্ছেন মো. সাইফুল ইসলাম অনিক

আমরা বুদ্ধিমত্তা বলতে কী বুঝি?
বিজ্ঞানীরা যখন বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে কথা বলেন, তখন সাধারণত সমস্যা সমাধান করার এবং সংযোগ স্থাপনের বিষয়টি শনাক্ত করার কথা বলেন। আগের কোনও অভিজ্ঞতা থেকে সমস্যার সমাধান করে প্রাণীরা। তারা কিন্তু বেশ স্মার্ট। আগামী দিনের পরিকল্পনাকে প্রাণীজগতে উন্নতমানের বিষয় হিসাবে দেখা হয়।

পাখির মস্তিষ্ক
পায়রাদের পাণ্ডিত্য নিয়ে কোনও কথা হবে না। গবেষণা বলছে, পায়রা পড়তে পারে, এমনকি বানান ভুল পর্যন্ত ধরতে পারে। মানুষের থেকেও বেশি কাজ করতে সক্ষম পায়রা। আকারে মানুষের থেকে ছোট হলে কী হবে, পায়রাদের মস্তিষ্কে মানুষের মস্তিষ্ক থেকে প্রতি ঘন মিলিমিটারে ছয়গুণ বেশি স্নায়ু কোষ রয়েছে।

কাকও কি বানর গোষ্ঠীর মতো চালাকচতুর?
প্রাইমেটদের মতোই বুদ্ধি রাখে কাকেরা। কাক গণনা করতে পারে। একাধিক জিনিস ব্যবহার করতে পারে। খাবার লুকিয়ে রাখলেও ঠিক খুঁজে বের করতে পারে। এরপর নিরাপদ জায়গায় সেই খাবার নিয়ে রাখে কাকের দল, তবে সকলের অগোচরে। কাক আয়নায় নিজেকে চিনতে পারে, যাকে আত্মসচেতনতার একটা ডিগ্রি হিসেবে ধরা যেতে পারে।

মাছ আয়নায় কী দেখে?
মাছও নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে চিনতে পারে। তবে তারা নিজেরা কতটা আত্মসচেতন তা স্পষ্ট নয়। একেবারে খুদে ক্লিনার ব়্যাস মাছ আয়নায় নিজের ছবির সঙ্গে লড়াই করতে চায়, এমনকি উলটো সাঁতার কেটেও পরীক্ষা করে দেখে ব্যাপারটা আসলে কী। অবশেষে, বিজ্ঞানীরা তাদের শরীরে যে সব চিহ্ন দিয়েছিলেন, আয়না দেখে সেগুলি তারা সরিয়ে দেয়। সম্ভবত আয়না কীভাবে কাজ করে, তা তারা বুঝতে পারে।

সমুদ্রের তলদেশের প্রাণীরা?
বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যে মাছেদের কি গণ্য করা হয়? এটির সঙ্গে জলের নীচে কম উদ্দীপক পরিবেশের সম্পর্ক থাকতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, স্থলভাগের পরিবেশ তুলনামূলক জটিল। তাই সেখানকার প্রাণীরা জটিল কৌশল ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। আর সামুদ্রিক প্রাণীরা সমস্যার সমাধানে আগে থেকে ঠিক করা কিছু উপায়ের উপর নির্ভর করে।

অক্টোপাসও কি বুদ্ধিমান?
অক্টোপাস মানুষের মতো বুদ্ধিমান প্রাণী। ডোনাট আকারের একটি মস্তিষ্ক এবং শুঁড়ের মতো আটটি হাতে থাকা অজস্র নিউরনের কারণে এটি জটিল কাজ করতে পারে ও ভিন্ন ভিন্ন মানুষকে চিনতে পারে। প্রবাল প্রাচীরের কোণে গিয়ে খাবার খুঁজে বের করতে করতেই অক্টোপাস বোধহয় এতটা বুদ্ধিমান হয়ে গিয়েছে।

ডলফিনরা কি সত্যি স্মার্ট?
প্রাণীজগতের বুদ্ধিমানদের অন্যতম হলো ডলফিন, কারণ তারা খুবই সামাজিক, প্রাণবন্ত এবং সহজে সকলের সঙ্গে মিশতে পারে। যদিও কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, তাদের বুদ্ধিমত্তার বিষয়টি একটু বাড়িয়ে বলা হয়।

শূকরের বুদ্ধিও কিন্তু কম নয়
বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে বিচার করলে কুকুরকে ছাপিয়ে যেতে পারে শূকর। নির্দেশ পালনে সক্ষম শূকর, নাম ধরে ডাকলেও সাড়াও দেয়। জটিল বিষয়ও অনেক সময় বুঝতে পারে। জয়স্টিক চালানো শেখানো যায় তাদের। ডিভাইসের গতিবিধি এবং পর্দায় কার্সারের নড়াচড়া বুঝতে পারে।

বিড়াল নাকি কুকুর?
কুকুরপ্রেমী এবং বিড়ালপ্রেমীরা দীর্ঘকাল ধরে তর্ক করে চলেছে কে বেশি স্মার্ট? কুকুর বিভিন্ন মানুষের ভাষার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে, নামের দ্বারা একাধিক বস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং জটিল কাজে তার মালিককে সহযোগিতা করতে পারে। দুই প্রাণীর মধ্যে তুলনা করা কঠিন। কুকুররা যখন খুশি মানুষের সঙ্গী হিসেবে খেলতে পারে। বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় বিড়ালদের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

হাতি চেনে শত্রু
হাতিকে অত্যন্ত মানসিক বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী বলে মনে করা হয়। কেনিয়ার অ্যাম্বোসেলি ন্যাশনাল পার্কের হাতিরা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে আসা বিভিন্ন ধরনের হুমকির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে এবং সে অনুযায়ী সমাধান করতে পারে। এমনকি তারা তাদের শিকারি মাসাই গোত্রের মানুষের কণ্ঠ বুঝতে পারে। আবার তাদের দেখাশোনা করা কাম্বা গোত্রের মানুষ দেখলে শান্ত থাকে।

মন বোঝে প্রাণীরা?
জটিল পরিবেশের পাশাপাশি সামাজিকতা বুদ্ধিমত্তার বিবর্তনে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। ঘোড়া, কুকুরের মতো প্রাণী হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের সঙ্গে রয়েছে, তাই সঙ্গী হিসেবে মানুষকে তারা বুঝবে এটা স্বাভাবিক৷ ঘোড়া শত্রুদের তুলনায় বন্ধুত্বপূর্ণ মানুষের মুখ চিনতে পারে। ছাগলের মতো অন্যান্য দলবদ্ধ প্রাণীরা নিজেদের ডাক বা গলার স্বর থেকে প্রজাতির অন্য প্রাণীর মানসিক অবস্থা বুঝতে পারে।

স্মার্ট-কার মান অনুযায়ী?
ঘোড়াদের যদি ছাগলের চেয়ে স্মার্ট মনে হয়, তার একটা কারণ হতে পারে, আমরা নিজেদের মতো করে তাদের বিচার করছি। প্রাইমেটোলজিস্ট ফ্রান্স ডি ওয়াল বুদ্ধিমত্তার মূল্যায়ন নিয়ে বলেছেন, ‘মানুষ সবসময় বুদ্ধিমত্তার সংজ্ঞা গণনার ক্ষমতার উপর ভিত্তি করে তৈরি করেছে। কিন্তু অনেক প্রাণীর ক্ষেত্রে বেঁচে থাকতে গেলে গণনার ক্ষমতার প্রয়োজন নেই৷’

মানুষ সামাজিক বুদ্ধিমত্তার শিখরে?
শিম্পাঞ্জি ও মানুষের ডিএনএর ৯৮ শতাংশই সম্পূর্ণ একরকম। তবে মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরের ওজনের অনুপাত শিম্পাঞ্জিদের তুলনায় তিনগুণ। আসল পার্থক্য হলো মানুষের একে অপরের থেকে শেখার ক্ষমতা, জ্ঞানকে পরিমার্জন করা, বিস্তৃত করা এবং ধারণা তৈরি করার ক্ষমতা রয়েছে। এছাড়াও ক্রমশ এগিয়ে চলার সংস্কৃতি তৈরি করতে পারে শুধুমাত্র মানুষ।

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading