অন্তরে থাকুক বঙ্গবন্ধু
রাশেদ খান মিলন । বুধবার, ১৬ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৪:১৭
যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই। যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই! তবে বিশ্ব পেত এক মহান নেতা, আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা। গানের কথাগুলো শুনলেই চোখ ভিজে আসে। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা শুধু বাংলায় কেন এই গোটা পৃথিবীতে খুব বেশি নেই যিনি একটা জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি দিনের পর দিন লড়াই সংগ্রাম করে গেছেন স্বাধীনতার জন্য এবং সত্যি সত্যি তিনি সেই দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন!
১৯৪৭ থেকে ১৯৭১। টানা ২৪ বছরের সেই সংগ্রাম যেন এক মহাকাব্য, যেই কাব্যের ধারাবাহিকতায় কখনো ছয় দফা, কখনো বা সরাসরি ঘোষণা, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’
বাংলাদেশে যোগ্য নেতা নেই বলে আমরা সবসময় হা হুতাশ করি। উন্নত কোনো রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টের সততার সঙ্গে সাধারণ জীবনযাপন দেখলে আমরা খুশি হই। কেউ রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ছাড়া স্বাভাবিকভাবে ঘুরলে তাকে স্বাগত জানাই। কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের কাছে সবসময় সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া থাকলে আমরা তাকে জনপ্রিয় নেতা বলি। কোনো রাষ্ট্রপ্রধান উদার হলে তাকে মহান বলি। অথচ এই সবকিছুই ছিল বঙ্গবন্ধুর মধ্যে। সারা পৃথিবী খুঁজে বঙ্গবন্ধুর মতো এমন অসাধারণ নেতা পাওয়া দুষ্কর।
কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কিংবদন্তি বিপ্লবী ফিদেল ক্যাস্ত্রো বলেছিলেন, ‘আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায় তিনি হিমালয়ের মতো।’ ফিলিস্তিন মুক্তি মোর্চার সাবেক নেতা, নোবেল বিজয়ী ইয়াসির আরাফাত বলেছেন, ‘আপোষহীন সংগ্রামী নেতৃত্ব ও কুসুমকোমল হৃদয় ছিল মুজিবের চরিত্রের বিশেষত্ব।’
আমরা বড় অভাগা জাতি এমন বিশ্বনেতাকে স্বাধীনতার মাত্র চার বছরের মাথায় সপরিবারে হত্যা করা হয়েছিল এই দেশেই। যে পাকিস্তানিরাও সাহস করেনি তাকে হত্যা করতে স্বাধীন দেশে সেই বঙ্গবন্ধুকেই হত্যা করা হয়েছিল। পচাত্তরের সেই ১৫ আগস্টের শ্রাবণের রাতে বঙ্গবন্ধুর রক্ত আর আকাশের অশ্রু যেন এক হয়েছিল। আসলে তো শুধু তো বঙ্গবন্ধু নন, তার আদর্শকেই হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল। তাই তো বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সব সদস্যরা এমনকি নারী বা শিশু রাসেলও বাদ যায়নি।

