তারুণ্য শক্তিই ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অস্ত্র
শাহরিয়াজ মাহমুদ । শুক্রবার, ২৫ মার্চ ২০২২ । আপডেট ০৯:৩৫
বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশ লাভ করছে ডিজিটাল অর্থনীতি। দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে। এটিই ডিজিটাল অর্থনীতির সবেচেয়ে সম্ভাবনাময় দিক। দেশের নারীরা ফ্রিল্যান্সিংয়ে দারুণ। তারুণ্য শক্তিই এই ডিজিটাল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় শক্তি। অনলাইন শ্রমশক্তির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সাশ্রয়ী শ্রমবাজার এবং মূলধন ঝুঁকি এড়াতে যুক্তরাজ্যের আইটি কোম্পানিগুলোও বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একসময় কৃষির অবদান ছিলো ৮০ শতাংশ। এখন দেশের অর্থনীতিতে কৃষির অবদান মাত্র ১৯ শতাংশ। তারপরও বাংলাদেশ এখন খাদ্য উদ্বৃত্তের দেশে রূপান্তর হয়েছে। মেধা ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে খাদ্য উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে। আবার উৎপাদিত কৃষি পণ্য সরাসরি ভোক্তার কাছে পৌঁছতে এখন ব্যাপকভাবে ডিজিটাল মাধ্যম, মোবাইল পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করা হচ্ছে। ফেসবুকের মাধ্যমেও হাজার হাজার তরুণ খুঁজে নিয়েছে নিজেদের কর্মসংস্থান।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ঢাকা মানে বাংলাদেশ নয়, ঢাকার বাইরের বাংলাদেশই হলো আসল বাংলাদেশ।’ তাঁর আদর্শকে ধারণ করে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে গ্রাম ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে গুরুত্ব দিয়েছেন। পৃথিবীর সব উন্নত রাষ্ট্র যে পথে হেঁটে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার ঘটিয়েছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই গতানুগতিক পথে না হেঁটে, ২০১০ সালে সারা দেশে একযোগে সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (শুরুতে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র নাম ছিল) চালু করেন। ফলে আমাদের ডিজিটাল অর্থনীতি বিকাশে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অবদান রাখছে। বাংলাদেশে ডিজিটাল বৈষম্য পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো দৃশ্যমান নয়। তথ্যপ্রযুক্তির যথাযথ ও কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে একটি জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ভিশন-২০২১ ঘোষণা করেন। আমাদের সরকারের ভিশন সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। আর জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আগে আমরা গুরুত্ব দিতাম শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের প্রতি। কিন্তু বিশ্বায়নের এই যুগে আজ যেমন রোড কানেকটিভিটি দরকার, তেমনি ইনফরমেশন কানেকটিভিটিও দরকার।
বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহার কোনো বিলাসিতা নয়। সারা বিশ্বে আজ দাবি উঠেছে মানুষের পাঁচটি মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের পর ষষ্ঠ মৌলিক চাহিদা হিসেবে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন, বিশ্ব–পরিমøলে এগিয়ে যেতে হলে এবং আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রযুক্তির বিকল্প নেই। আর প্রযুক্তির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ইন্টারনেট। দেশে ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়নে বাংলাদেশকে ২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। ইউরোপীয় আন্তঃব্যাংক সুদ হারের (ইউরোবর) সঙ্গে শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ সুদ হারসহ সব মিলিয়ে প্রায় ২ শতাংশ সুদসহ ৩৪ বছরে এই ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এর মধ্যে ঋণের রেয়াতকাল ধরা হয়েছে চার বছর। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন এবং বিশ্ব ব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি মার্সি মিয়াং টেম্বন গত জানুয়ারিতে এ বিষয়ে একটি চুক্তিতে সই করেন। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি প্রসারে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা এবং দেশীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি শিল্পের প্রসার ঘটানো। আর তাই যদি হয় তবে ডিজিটাল বাংলাদেশ হবে বিশ্বের এক পথিকৃত।
এ প্রকল্পের মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলার কৌশল নির্ধারণ ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
লেখক: বেসরকারী চাকুরিজীবী
ইউডি/সুস্মিত

