শঙ্কা বাড়াচ্ছে ডায়রিয়া, ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে

শঙ্কা বাড়াচ্ছে ডায়রিয়া, ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে

রাশেদুল করিম । রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২ । আপডেট ১৩:০০

আবহাওয়ার পারদ ঊর্ধ্বমুখী হতেই রাজধানীতে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। রোগী সামলাতে আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের বাইরে অস্থায়ী তাঁবু টানানো হয়েছে। এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর ২৩ শতাংশ কলেরায় আক্রান্ত। ডায়রিয়ার আড়ালে শঙ্কা বাড়াচ্ছে কলেরা।

আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছরই শুষ্ক মৌসুমে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দেয়। তবে এবার সময়ের কিছুটা আগেই রোগী আসতে শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে রোগের জীবাণুর ধরন পরিবর্তন হয়ে থাকতে পারে। তবে সেটি গবেষণা না করে বা নিশ্চিত না হয়ে বলা সম্ভব নয়। এবারের রোগীদের মধ্যে সিভিয়ার ডায়রিয়া এবং কলেরা আক্রান্ত রোগীও পাওয়া যাচ্ছে। কলেরায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বিগত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি, যা মোট আক্রান্তের ২৩ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরে সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ এখনো কলেরামুক্ত হয়নি। যত দিন পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত না হবে তত দিন পর্যন্ত আমরা কলেরা ঝুঁকিতে থাকব। কলেরা মোকাবিলায় আমরা পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রেখেছি। স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তারা ঢাকা শহরে পানি সরবরাহ করে, পয়ঃনিষ্কাশনে কাজ করে। সিটি করপোরেশন, ওয়াসার সঙ্গে মিটিং করে আমরা ডায়রিয়া-কলেরা নিয়ে সতর্কতার বিষয়ে জানিয়েছি।

রাজধানীর মহাখালীতে আইসিডিডিআর, বি হাসপাতালে সরেজমিন দেখা যায়, রোগী বাড়ায় হাসপাতালের বাইরে বসানো হয়েছে অস্থায়ী তাঁবু। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা থেকেও রোগী আসছে। অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি ভাড়া করে রোগী আসছে হাসপাতালে। প্রতিদিন ১ হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্তরা কলেরায় আক্রান্ত হলে তাদের জীবনও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ে। আর এ আক্রান্ত হওয়ার জন্য প্রধানত দায়ী করা হয় দূষিত বা অনিরাপদ পানিকে। তবে শুধু পানের জন্য ব্যবহৃত পানিই নয়, বরং খাদ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে সব কাজেই ব্যবহৃত পানি নিরাপদ হতে হবে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের অনেক দেশেই এখনো ডায়রিয়ার পাশাপাশি কলেরার বিস্তার ঘটছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬৯টি দেশে প্রতি বছর ২৯ মিলিয়ন মানুষ কলেরার কবলে পড়ে, যাদের মধ্যে বছরে প্রায় ১ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।

গরম বাড়ায় পিপাসায় মানুষ বাইরের বিভিন্ন দোকান থেকে শরবত, আখের রস কিনে খাচ্ছে। স্কুল গেটের বাইরে শিশুরা বিভিন্ন খাবার কিনে খাচ্ছে। এসব কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়া বাড়ছে। কলেরা আক্রান্তেরও প্রাথমিক উপসর্গ চাল ধোয়া পানির মতো বারবার পাতলা পায়খানা হওয়া। ভিব্রিও কলেরা নামক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হয়। বমি বমি ভাব, গলা শুকিয়ে যাওয়া, বারবার পাতলা পায়খানা, খিঁচুনি হলে দ্রুত হাসপাতালে আসতে হবে।

বর্তমানে ডায়রিয়া, বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে। এর প্রধান দুটি কারণের একটি হচ্ছে বায়ু দূষণ। আমরা জানি বাংলাদেশ বায়ু দূষণের পৃথিবীর অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে। বায়ু দূষণের কারণে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ এবং বাচ্চাদের নিউমোনিয়া বেড়ে যাচ্ছে। দূষিত বায়ু যখন খোলা খাবারের সংস্পর্শে আসে, তখন খাবারেও দূষণ যুক্ত হচ্ছে।

এর ফলে ডায়রিয়া রোগ বাড়ছে। আমরা অনেক বছর যাবত, ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে নিরাপদ খাবার পানির কথা বলে আসলেও, সেটা এখনও নিশ্চিত হয়নি। ফলে এই অনিরাপদ পানি থেকেও ডাইরিয়া হচ্ছে। এই দুটি কারণেই ডায়রিয়া এবং বাচ্চাদের নিউমোনিয়া রোগ বাড়ছে।

ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে যেসব মেগা প্রকল্প চলছে, তাতে পরিবেশ রক্ষায় যেসব বিষয় মানা উচিৎ সেগুলো একদমই মানা হচ্ছে না। অপরদিকে পরিবেশের মান রক্ষায় হাইকোর্ট যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিল, তারও কোনটা মানা হচ্ছে না। যার ফলশ্রুতিতে ডায়রিয়া, বাচ্চাদের নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ বাড়ছে।

বায়ু দূষণ মুক্ত করার জন্য হাইকোর্ট নির্দেশিত ১১ দফা বাস্তবায়ন, পরিবেশ দূষণ রোধে বিজ্ঞানসম্মত উপায় গ্রহণ এবং সুপেয় নিরাপদ খাবার পানি যদি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে ডায়রিরা, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

লেখকঃ অনলাইন বিশ্লেষক

ইউডি/অনিক

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading